মিউজিক : বিশ্বসেরা হেভি মেটাল ব্যান্ড

ল্যাম্ব অব গড

বর্তমানে বিশ্বের সব মেটাল গানের দলের মধ্যে যারা খ্যাতির চূড়ায় অবস্থান করছে, তাদের তালিকায় রয়েছে ‘ল্যাম্ব অব গড’ ব্যান্ডটির নাম। সারা বিশ্বের মেটালপ্রেমী শ্রোতাদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ভার্জিনিয়ার এ আমেরিকান হেভি মেটাল ব্যান্ডটিকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম আমেরিকান হেভি মেটাল ব্যান্ড ল্যাম্ব অব গডের পথচলা শুরু ১৯৯৪ সালে ভার্জিনিয়ায়। ১৯৯০ সালে আমেরিকায় গিটারিস্ট মার্ক মর্টন, ড্রামার ক্রিস অ্যাডলার, বেইজিস্ট জন ক্যাম্পবেল ও গিটারিস্ট ম্যাট কলার মিলে ‘বার্ন দ্য প্রিস্ট’ নামের একটি দল গড়ে তোলেন। দলের সব সদস্যই ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। এরপর সেখান থেকে দুজন সদস্য চলে যান ব্যান্ড থেকে। এরপর অ্যাডলার ও ক্যাম্পবেল গিটারিস্ট মার্ক মর্টনের স্থলে অ্যাবি স্পিয়ারকে নেন। সেই সাথে পরবর্তী পাঁচ বছর তারা রিচমন্ড ও ভার্জিনিয়ার আশপাশেই অনুশীলন করেন। ১৯৯৫ সালে তারা তাদের স্ব-শিরোনামেই প্রথম ডেমো প্রকাশ করেন। ডেমো বের করার কিছুদিন পর তারা ‘অ্যাজেন্টস অব স্যাটান’ এবং ‘জেড’-এর সঙ্গে দুটি যৌথ অ্যালবাম বের করেন। পরবর্তী সময়ে র্যান্ডাল ব্লিথ ভোকালিস্ট হিসেবে দলে যোগ দেন। ছেড়ে যাওয়া মার্ক মর্টনও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার পর দলে ফিরে আসেন। ১৯৯৯ সালে তাদের স্ব-শিরোনামের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের অ্যালবাম বের হয় লেজিয়ন রেকর্ডস থেকে। অ্যাবি স্পিয়ার পরবর্তী সময়ে দল ত্যাগ করেন এবং তার স্থানে উইলি অ্যাডলারকে গিটারিস্ট হিসেবে নেওয়া হয়। এর পর থেকে তাদের আর সদস্য বদল হয়নি। তারা ২০০০ সালে তাদের দলের নাম বদলে ‘ল্যাম্ব অব গড’ রাখেন। এই ব্যান্ডটিকে আমেরিকান হেভি মেটালের নতুন স্রোত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ল্যাম্ব অব গড গঠনের পর এ পর্যন্ত তারা ৬টি স্টুডিও অ্যালবাম, ১টি লাইভ অ্যালবাম ও ৩টি ডিভিডি প্রকাশ করেছে। আমেরিকায় তাদের মোট ২ মিলিয়ন কপি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে। ২০০৬ সালে ব্যান্ডটি গ্রামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পায় তাদের অ্যালবাম ‘স্যাক্রামেন্ট’-এর জন্য। ল্যাম্ব অব গড ওজফেস্টে দুই বার ও স্লেয়ার ব্যান্ডের সাথে দ্য আনহলি অ্যালায়েন্স ট্যুর করে ২০০৬ সালে। তারা সারা বিশ্বজুড়ে নানা উত্সবে গান করে যেমন—ডাউনলোড ফেস্টিভ্যাল ও সনিস্পেয়ার ফেস্টিভ্যাল। তারা মেটালিকা ব্যান্ডের সাথে ২০০৮-২০০৯ সালে ওয়ার্ল্ড ম্যাগনেটিক ট্যুর করেন। ব্যান্ডটির প্রাথমিক নাম ছিল বার্ন দ্য প্রিস্ট। ১৯৯৯ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম বার্ন দ্য প্রিস্ট লিজান রেকর্ডস থেকে বের হয়। অনেক জায়গাতে তাদের নিষিদ্ধও করা হয়। এই বিশ্বাসের কারণে যে তাদের নাম শয়তান সম্পর্কিত। তাই তারা তাদের নাম পরিবর্তন করে রাখে ল্যাম্ব অব গড। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন নাম ও লেবেলে নতুন অ্যালবাম বের হয়। যার নাম নিউ আমেরিকান গোস্পেল। প্যাট্রিক কেনেডি ব্যান্ডের শুরুটাকে পেন্টেরা ব্যান্ডের সাথে তুলনা করেন। রোলিং স্টোন ব্যান্ডের কির্ক মিলার তাদের তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম অ্যাজ দ্য প্যালেসেস বার্নকে পাঁচে তিন দেন। ২০০৩ সালের এক নম্বর অ্যালবাম হিসেবে অ্যালবামটিকে ভোট দেন রিভলভার ম্যাগাজিন ও মেটাল হ্যামার ম্যাগাজিন। প্রথম হেডব্যাঙ্গারস বল সফরে তারা একটি ডিভিডি রেকর্ড করে যাতে একটি তথ্যচিত্রও ছিল এবং টেরর ও হাবরিস নামের একটি ডিভিডি অ্যালবাম বের করে। এটি ৩১ নম্বরে স্থান পায় বিলবোর্ড টপ মিউজিক ভিডিও চার্টে। ল্যাম্ব অব গড প্রথমবারের মতো ১৭ এপ্রিল ২০১০-এ ফিলিপাইনে সংগীত পরিবেশন করে থ্রাশ মেটাল ব্যান্ড টেস্টামেন্টের সাথে। তারা ১৫ মে ২০১০-এ সামার স্টোর্ম ফেস্টিভ্যালে ১ম বারের মতো ভারতের ব্যাঙ্গালোরে গান পরিবেশন করে। মেটালিকা ব্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ান ট্যুর ২০১০-এর শেষের দিকে তারা একটি ব্যান্ড হিসেবে সহযোগিতা করে। ল্যাম্ব অব গডের যত অ্যালবাম  বার্ন দ্য প্রিস্ট (বার্ন দ্য প্রিস্ট নামে)-১৯৯৯  নিউ আমেরিকান গোম্পেল-২০০০  অ্যাজ দ্য প্যালেসেস বার্ন-২০১৩  অ্যাশেজ অব দি ওয?েক-২০০৪  স্যাক্সামেন্ট-২০০৬  র্যাথ-২০০৯  রেজল্যুশন-২০১২ ল্যাম্ব অব গডের সদস্যরা  জন ক্যাম্পবেল-বেজ (১৯৯০-বর্তমান)  ক্রিস অ্যাডলার-ড্রামস (১৯৯০-বর্তমান)  মার্ক মর্টন-গিটার (১৯৯০-১৯৯৪, ১৯৯৭-বর্তমান)  র্যান্ডি ব্লিথ-ভোকাল (১৯৯৫-বর্তমান)  উইলি অ্যাডলার-গিটার (১৯৯৯-বর্তমান) এ ক ন জ রে নাম :ল্যাম্ব অব গড প্রতিষ্ঠা :রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া, আমেরিকা ধরন :গ্রুভ মেটাল, থ্রাশ মেটাল, মেটালকোর, ডেথ মেটাল (শুরুতে) কার্যকাল :১৯৯০-বর্তমান লেবেল :প্রোসথিটিক রেকর্ডস, এপিক রেকর্ডস, রোডরানার রেকর্ডস ওয়েবসাইট : www.lamb-of-god.com