কমলগঞ্জে কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি করছে বিদেশি গাছ
নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৬
বিদেশি প্রজাতির আকাশমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি দিয়ে তৈরি বনায়নে কমলগঞ্জে কৃষি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ অঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি এসব কৃত্রিম বাগানসমূহে এখন আগ্রাসী প্রজাতির এ বিদেশি গাছের চারা শোভা পাচ্ছে। এতে কৃষি, মত্স্য চাষাবাদে ক্ষতি ছাড়াও পরিবেশেরও ক্ষতি বয়ে আনছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
জানা যায়, দ্রুত বর্ধনশীল ও মুনাফালাভে গত কয়েক যুগ ধরে দেশের বনাঞ্চল, রাস্তার ধারে ও ব্যক্তি উদ্যোগে ইউক্যালিপটাস, পাইন, আকাশমনি, মেনজিয়ামসহ বিদেশি প্রজাতির হাইব্রীড জাতীয় গাছ দিয়ে বনায়নের হিড়িক শুরু হয়। ফলে দেশীয় প্রজাতির মূল্যবান কাঠ ও ফলের গাছ এবং ওষুধি বৃক্ষের চাষ উত্পাদন ও সংরক্ষণের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত। এসব গাছ-গাছালি কৃষি চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি বয়ে আনছে। রাস্তার পাশে সামাজিক বনায়নের এসকল গাছের ছায়ায় পড়ে ধান গাছে রোগের আক্রমণ দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে মারা যায়।
কমলগঞ্জের এক স্কুল শিক্ষক বলেন, বিদেশি প্রজাতির এ গাছ চাষাবাদকৃত কৃষিজমি নষ্ট, মত্স্য চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতির কারণ বলে তারা মনে করেন। সংরক্ষিত বনাঞ্চল, চা বাগান ও রাস্তার ধারে শুধুমাত্র আগ্রাসী প্রজাতির আকাশী, মেনজিয়াম ও রাবার গাছের কৃত্রিম বনায়ন গড়ে উঠছে। বিদেশি প্রজাতির ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি গাছ মাটির ক্ষতি করে। রোগ-বালাই তৈরি করে। ইউক্যালিপটাস জমির জন্য ক্ষতিকর, তাছাড়া এই গাছ পানি শোষণ করে খুব বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, আকাশী গাছের ছায়ায় ধান গাছের পাতা মোড়ানো রোগ হচ্ছে। রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কৃষকদের কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আকাশী গাছের পাতা ঘন, এমনকি সূর্যের আলো মোটেও পড়ে না। এগুলো প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। গাছের পাতা পড়ে কৃষিক্ষেত বিনষ্ট হচ্ছে। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং ক্ষতিকর এসব গাছ রোপণ থেকে সবাইকে নিরুত্সাহিত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।