আরেকটি উত্সবের অপেক্ষায় দর্শকরা
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৭
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে ড্র আর ওয়ানডেতে জয়ের ট্রফিটা আগেই ঘরে তুলে ফেলেছিল বাংলাদেশ। যে কারণে গতকাল মিরপুরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা ছিল মহোত্সবের একদিন। স্টেডিয়ামের ভেতরে যতটা না দর্শক তার চেয়েও বেশি ছিল বাইরে। নিউজিল্যান্ডের কাছে শেষ পর্যন্ত ১৫ রানে স্বাগতিকরা হারলেও দর্শকদের মনে এতোটুকু কষ্ট লাগেনি, এক বিন্দুও আঁচড় লাগেনি জয়ের উত্সবে। তাই ম্যাচটা হেরে মুশফিকরা যখন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের সাথে হাত মেলাচ্ছিলেন, সেসময় গ্যাল্যারির দর্শকরাও হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। দর্শকদের কথা, টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা না জেতায় কীইবা ক্ষতি হয়েছে। বিএম কলেজের ছাত্র তাহিয়াতের কথা হচ্ছে অনেক কষ্ট করে টিকিট পেয়েছি খেলা দেখেছি। আনন্দ পেয়েছি। দর্শকদের অভিমত এই হারে কোনো কিছু হারায়নি বাংলাদেশ। এই সিরিজটি বাংলাদেশকে অনেক কিছুই দিয়েছে। টিটোয়েন্টি না পেলেই বা কি হবে। এ কথা শুধু বড়দের নয়। ছয় বছরের শিশু আফিয়া ওয়াসিমা ফাইজাও মনে করে। মোহাম্মাদপুর প্রিপারেটরী স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফাইজা মিরপুরে গিয়ে ছিল বাবা মাহফুজুর রহমানের হাত ধরে। সারাক্ষণ ম্যাচ নিয়ে তার কী যেন টেনশন। তা চোখে না দেখলে বুঝা কঠিন। বার বার স্কোর বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকা। খোঁজ নেয়া কে কত রান করল। মুশফিক, জিয়া, নাসির, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সোহাগ গাজীর চার-ছক্কার মার দেখে যে ভাবে এই শিশুটি লাফিয়ে উঠছিল তা অন্যদের আনন্দ দিয়েছে। ম্যাচ শেষে কোনো হতাশা ছিল না ফাইজার। তবে তার একটা প্রশ্ন ছিল। টিকিট পেয়েও কেন সিঁড়িতে বসে খেলা দেখতে হচ্ছে। টিকিট নম্বর আছে, সিট নম্বর উল্লেখ আছে। তাহলে কেন সিঁড়িতে বসে খেলা দেখতে হবে। শুধু ফাইজা নয়, তিন বছরের শিশু টিকিট নিয়ে মাঠে ঢুকেও সিট পায়নি। ওদের মতো অনেকেই দাঁড়িয়ে খেলা দেখেছে কাল। মিরপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ম্যাচ দাঁড়িয়ে দেখার রেওয়াজ নেই। কারণ যে কটা সিট সে কটা টিকিট। তাহলে এতো দর্শক গ্যালারিতে ঢুকল কিভাবে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিশ্চিত সিট পাবে জেনে দেরিতে মাঠে ঢুকে দাঁড়ানোরও জায়গা না পেয়েও গ্যালারির কয়েকটি স্থানে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। শেষ ম্যাচটা দেখতে গিয়ে কিছু দর্শক কষ্ট করেছেন। তারপরও ম্যাচ হারের গ্লানি গায়ে লাগেনি তাদের। বরং নতুন ভাবনায় বুঁদ হচ্ছেন আবার ক্রিকেট উত্সবে গা ভাসাবেন বলে। নিজেদের মাটিতে উত্সবের আরেকটি উপলক্ষ আসছে আগামী জানুয়ারিতে। তখন শ্রীলংকা আসবে সিরিজ খেলতে। সে পর্যন্ত ক্রিকেট অনুরাগীদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।