মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ!
হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩৪
সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার পাহাড়ি রাংপানি নদীতে চারটি বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ আটকে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এতে পানির অভাবে চলতি রবি মৌসুমে ফসল চাষাবাদ নিয়ে এলাকার কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে নদী থেকে বাঁধ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, মাছ ধরার নামে সম্প্রতি উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার সংলগ্ন রাংপানি নদীর প্রায় ৬ শ’ মিটার এলাকায় পর পর ৪টি বাঁধ নির্মাণ করে প্রভাবশালীরা। এতে পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে নদীটি অনেক স্থানে শুকিয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেন না নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। প্রতি বছর রবি মৌসুমে এলাকার প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে টমেটো, মূলা, শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, লাল শাক, সরিষা, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ অন্যান্য শাক-সবজি চাষ করে বাড়তি টাকা আয় করে স্থানীয় কয়েক হাজার পরিবার। কিন্তু এবার পানির অভাবে রবি শস্য চাষাবাদ বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা করছেন তারা। অবিলম্বে নদী আইন লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নদী থেকে বাঁধগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, ‘আমরা কৃষি কাজ করে কোনরকমে বেঁচে আছি। এর মধ্যে পানির অভাব হলে তো আমাদের কপাল পুড়বে।’
একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এখলাসুর রহমান তার ভাইসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে মাছ ধরার জন্য নদীতে বাঁধগুলো দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, মাছ ধরতে নয়, রবি মৌসুমে সেচের জন্য তারা বাঁধ দিয়েছেন।
জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বাঁধ নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এটা আইনসংগত নয়। তিনি উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবেন।
এদিকে নদীর গতিপথ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের জানা নেই বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।