পথে ঘাটে

খাঁচা থেকে টিয়া বের করে ‘গণক’ ছেড়ে দিলেন খামে লেখা ভাগ্যলিপিতে। প্রথমে খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার নামে উঠল:“এই নাম উঠিলে তাহার শত্রুরা বান্ধব সাজিয়া দেখা দিবে এবং সুযোগ মত ক্ষতি করিবার চেষ্টা করিবে। বান্ধব সাজা গোপন বন্ধুদের কাছে কোন গোপন কথা প্রকাশ করিলে ভীষণ বিপদে পড়িবার সম্ভাবনা আছে। শত্রু যতই থাকুক না কেন তাহার কোন ক্ষতি সাধন করিতে পারিবে না। সর্বদা শত্রুদের শত্রুতামি হইতে সাবধানতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।” এরপর টিয়ার ঠোঁটে উঠে এল শেখ হাসিনার ভাগ্য:“এই নাম উঠিলে মনবাসনা অবশ্যই পূরণ হইবে। অল্পদিনের মধ্যেই দুঃখ-কষ্ট-দারিদ্র্য, বালা-মসিবত দূর হইয়া প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হইবে এবং সুন্দর ও সুখী জীবন লাভ করিবে।” টিয়া পাখি দিয়ে এমন ভাগ্য পরীক্ষায় নেমেছিলেন এক যুবক সোমবার, হরতালের প্রথমদিন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পায়ে হাঁটাপথ। মানুষের ভিড়ে একজন টিয়াপাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা করেন। এক খাঁচায় দুটি টিয়া। সামনে অনেকগুলো সাদা খাম। এই অনেকগুলো খামের মধ্যেই পৃথিবীর সব মানুষের ভবিষ্যত্। যুবক গিয়ে জানতে চাইলেন, ‘দেখেন তো হাসিনা-খালেদার ভাগ্যে কি আছে।’ ভাগ্য গণক প্রথমে একটু চমকে উঠলেন। কিন্তু মুখে হাসি। পকেট থেকে ১০ টাকার একটি নোট বের করে যুবক জানতে চাইলো আপনি কত করে নেন? - একজন ১০ টাকা। - আচ্ছা আমি দেব, আপনি দু’জনের ভাগ্য গণনা করেন। তারপর ‘গণক’ খাঁচা থেকে একটি টিয়া বের করলো। ঘুরে ঘুরে টিয়াটি দু’জনের নামে দুটি খাম তুলল। ততক্ষণে জড়ো হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গণকের গণনা শোনার পর যুবক আবার জানতে চাইলো: - তারমানে কী, হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসতিছে নাকি? - তা কি করে বলব? আপনি দেখবার চাইলেন তাই দেখালাম। কে ক্ষমতায় আসবে সেটা আল্লাহর ইচ্ছা- গণকের উত্তর। শরিক হয়েছেন আরো দু-একজন। পেছন দিকে বোরখাপরা এক মহিলা এসে দাঁড়ালেন। বলতে শুরু করলেন:হাসিনাও আমার বোন লাগে না, খালেদাও আমার বোন লাগে না। যেকোন একজন আসলেই হইলো। হাসিনাও আমারে টেকা দিবে না, খালেদাও না। উল্টো আমগোরে হাসিনা-খালেদারে টেকা দিতে হইবো। তয় এখন খালেদা জিয়ার আসনের দরকার। শেখ হাসিনা তো এতদিন করছেই। সে তো এতদিন খায়ছেই। অহন খালেদার খাওন দরকার। - এরা ভাগ কইরা লউক। - দোনোজনেরে বাদ দিয়া অহন এরশাদের আসোনের দরকার। - এরশাদ এখন মরা পাটটি হয়ে গেছে। তার কথা বলে লাভ নাই। সবাই খুব মজা এবং আনন্দ নিয়ে কথাগুলো বলছিল।