সমঝোতা না করলে সমাধান হবে রাজপথে :ফখরুল
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৬
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নে সংলাপ ও সমঝোতার পথ উন্মুক্ত না করে সরকার যদি নিজস্ব পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যায়, তাহলে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটের চূড়ান্ত সমাধান হবে রাজপথেই। এতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে এর একশ ভাগ দায় এই সরকারকেই নিতে হবে, সেখানে বিরোধী দলের কোনো দায় থাকবে না। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী; কিন্তু ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন স্বৈরাচার’কে রাজপথে কিভাবে পরাজিত করতে হয় সেটিও বিএনপির জানা আছে।
১৮ দলের দ্বিতীয় দফায় ডাকা টানা ৬০ ঘণ্টার হরতালের গতকাল বুধবার শেষদিনে বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। হরতালের পর নতুন কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, পরবর্তী কর্মসূচি সময়মতো জানানো হবে।
ফখরুল বলেন, শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে নানা বিচিত্র ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তারা কখন কী বলছেন নিজেরাও জানেন না। একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করা এক মহাপরিকল্পনার অংশ। সবার অংশগ্রহণ ছাড়া একটি প্রহসনের নির্বাচনের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে সরকার অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার যদি নিরন্তর ‘অনড়তা, একগুঁয়েমি ও বৈরিতা’ দেখাতে থাকে তাহলে সমাধানহীন সংকটের জন্য তাদেরই দায়ী থাকতে হবে; কিন্তু আমরা চাই-এখনো সময় আছে, সরকার এগিয়ে আসুক, সমঝোতার জন্য সংলাপে বসুক।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যিনি বাড়ির প্রধান তাকেই তো উদ্যোগ নিতে হয়। যেহেতু সরকার এখন চালকের আসনে তাই সংলাপের উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে; কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে (সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম) চিঠি দিয়ে আমি এখনো উত্তর পাইনি।’
এর আগে হরতাল চলাকালে দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বিএনপি ‘শেষ মুহূর্ত’ পর্যন্ত সমঝোতার ‘আশায় থাকবে’। আমরা আশা করবো- সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে, তারা সংলাপের পথে ফিরে আসবে।
‘বিএনএফ’কে নিবন্ধন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান ইসি বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু করেছে। বিএনএফ নামের একটি ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠনকে নিবন্ধিত করতে ইসি সরকারি ‘চক্রান্তে’র ইন্সট্রুমেন্টে পরিণত হয়েছে। জনমনে ‘বিএনপি’ শব্দটিকে বিভ্রান্ত করার জন্যই বিএনএফকে নিবন্ধিত করা হচ্ছে। এমনকি জনমনে ‘ধানের শীষ’কে বিভ্রান্ত করতে বিএনএফকে নাকি ‘গমের শীষ’ বরাদ্দ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের এটি একটি ‘জঘন্য কূটকৌশল’। ইসির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কমিশনকে চরম মাশুল দিতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বানের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আপনারা আমাদের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশ পর্যন্ত করতে দিচ্ছেন না। তাহলে হরতাল করা ছাড়া আমাদের বিকল্প কী আছে! আমরা কী তাহলে চুপ করে থাকবো! তিনি বলেন, এখন নির্বাচনের মাস। তাই দাবি না মানলে হরতাল দেয়া ছাড়া আমাদের অন্য কোনো বিকল্প নেই।
‘বেগম খালেদা জিয়া সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গিবাদী’- সংসদে দেয়া দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এই মন্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এটা বারবার প্রমাণিত যে, খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক ও সকল ধর্মের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। সুরঞ্জিত বাবুরা নিজেদের দায় অন্যের ওপর চাপাতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’