আরবী বার মাসের মাহাত্ম্য

মহররম আরবি শব্দ এবং এর অর্থ হচ্ছে,পবিত্র,নিষিদ্ধ। এ মাসে কোন প্রকার ঝগড়া-বিবাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংঘাত-সংঘর্ষ ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ মাসে হজরত মুহাম্মদ (স.) কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধবিগ্রহ করেননি। তা ছাড়া মাসটি আরবি চান্দ্র বছরের প্রথম মাস। এ জন্য এ মাসের আলাদা একটি মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্টত্ব রয়েছে। তবে আরবি অন্যান্য মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদাও কম নয়। যেমন, দ্বিতীয় ‘সফর’ মাসে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ অর্থাত্ মাসটির শেষ বুধবার। শারীরিকভাবে অসুস্থ শেষনবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এ দিনে একটু সুস্থতাবোধ করেন। এদিনে বিশেষ নিয়মে নামাজ আদায়, দরুদ ও সালাম পাঠের ফজিলত রয়েছে। তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। এ মাসের বার তারিখে প্রিয় রসূল পাক (স.) দুনিয়াতে আগমন করেন এবং এ মাসেই আল্লাহর সান্নিধ্যে প্রস্থান করেন। বিশেষত এ মাসের বার তারিখকে ‘ফাতেহায়ে দোয়াজ দহম’ বলা হয়। চতুর্থ মাস রবিউসসানি,পঞ্চম মাস জমাদিউল আউয়াল, ষষ্ট মাস জমাদিউসসানি এবং সপ্তম মাস রজব। এসব মাসেও বিশেষ বিশেষ নফল ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজ রয়েছে। শবে মেরাজ উল্লেখযোগ্য রাত। এসব রাতেও আলাদা আলাদাভাবে বিশেষ নফল ইবাদত-বন্দেগি রয়েছে। শবে মিরাজ তো হলো সাতাশে রজব মিরাজের মাধ্যমে আল্লাহ এবং তাঁর কুদরতের নিদর্শনাদি বেহেশত, দোজখ, বেহেশতের নিয়ামত, দোজখের আজাব, ফেরেশতা,আকাশ, আরশ,কুরসী এসবই নবীজি (স.) প্রত্যক্ষ করেছিলেন। শাবান আরবি বছরের অষ্টম মাস। এ মাসে রসূল (স.) অধিক রোজা পালন করতেন। এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস রয়েছে এবং সেসব হাদিস পাঠ করলে বিস্তারিত জানা যাবে। তা ছাড়া রমজান নবম মাস এবং এ মাস রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এমাসের রোজা,তারাবিহের নামাজ, ইফতার এবং সাহারীতে অগণিত সওয়াব রয়েছে। আর মাহে রমজান তো এমনিতেই কুরআন নাজিলের মাস। এমাসের সাতাশে রাতে শবে কদর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কদরের রাতের বিশেষত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে কুরআন-হাদিসে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এ রাতের নামাজ আদাযের নিয়ম হলো,যে যতোবেশি রাকায়াত আদায় করবে সে ততোবেশিই সওযাব পাবে। এ নামাজ আদায়ের সহজ নিয়ম ও তরিকা যেকোন প্রচলিত নামাজ শিক্ষা বই থেকে জেনে নেয়া যেতে পারে। দশম মাসটি হলো মাহে শাওয়াল। এ মাসের ছয়টি রোজার ফজিলত সীমাহীন। জিলক্বদ মাস চান্দ্র বছরের একাদশতম মাস। এ মাসের ফজিলত সম্পর্কেও বহু হাদিস রয়েছে। তারপর সর্বশেষ অর্থাত্ দ্বাদশতম মাস হলো জিলহজ্ব। জিলহজ্ব মাসে ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ আদায়ের মাস। এ মাসে মুসলমান জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর স্ত্রী বিবি হাজেরা ও পুত্র ইসমাইল(আ.)-এর স্মৃতির নিদর্শন স্বরূপ আর্থিক সামর্থবান যেকোন মুসলমানের পক্ষ থেকে কুরবানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু এরপরও মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অন্যান্য এগারটি মাসের চেয়ে বেশিই আলোচিত হয়েছে। মহররম মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এ মাসের দশ তারিখ পবিত্র আশুরার দিন। এ দিনে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাক তাঁর শ্রেষ্টতম সৃষ্টি লওহে মাহফুজ এবং সকল জীবের পবিত্র আত্মা সৃষ্টি করেছেন। এমনকি, সাগর-মহাসাগর ও পাহাড়-পর্বত এ দিনেই সৃষ্টি করেছেন।