মহররম ও আশুরায় করণীয়-বর্জনীয় আমল
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ১৮:২৮
১৭ হিজরিতে হযরত ওমার (রা.) প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গণনা করেন আরবিবর্ষ। বছরের ১ম মাস মুহাররম, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ইসলামে হিজরি বছর তথা তারিখ ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়। তা বাদ দিয়ে বিধর্মীর তারিখ ব্যবহার করা প্রয়োজন ছাড়া বৈধ নয়। তা সত্ত্বেও হিজরী শতাব্দি বা সহস্রাব্দ পালন করার তরীকা ইসলামে নেই। সুতরাং বলাই বাহুল্য যে, বিজাতির সাল, শতাব্দি বা সহস্রাব্দ পালন করে অথবা তাদের তা পালন করা দেখে তাদের সঙ্গ দিয়ে উত্সব ও আনন্দ করা বৈধ নয়। এ ব্যাপারে শায়খ্ ইবনে জিবরীন বলেন:কাফিরদের (মুশরিকদের) কোন উত্সব-অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ করা জায়েয নয়। তাদের সাথে সামাজিক শিষ্টাচার বজায় রাখার খাতিরেও ঐ সব নব আবিষ্কৃত অবৈধ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া আল্লাহর বিধানের সুষ্পষ্ট লংঘন। আসমানী কিতাবসমূহে এবং আল্লাহর শরীয়াতে এ ধরনের কার্যকলাপ বৈধ হওয়ার কোনই প্রমাণ নেই। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর কোন অনুমতি নাই। আর এতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না যে, বিধর্মী-অবিশ্বাসীদের ঐ সকল অনুষ্ঠান বা তাদের অন্য কোন আনন্দ-উত্সবে অংশগ্রহণ করার মাাধ্যমে প্রকারান্তরে তাদের আবিষ্কৃত অবৈধ কার্য-কলাপে স্বীকৃতি ও সমর্থন তথা বিজাতির তা’যীম ও সম্মান প্রকাশ হয়ে থাকে। সুতরাং এ উপলক্ষে আয়োজিত কোনরূপ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং এ ব্যাপারে কোন প্রকার খুশী ও আনন্দ প্রকাশ করা মুসলিমদের জন্য সম্পূর্ণরূপে হারাম। মুসলিমদের কর্তব্য হল, তাদের নির্ধারিত উত্সব-অনুষ্ঠন বর্জন করে ঐ দিনটিকে বছরের অন্যান্য দিনের মতই সাধারণ একটি দিন মনে করা এবং তার বিশেষ কোন গুরুত্ব বা বৈশিষ্ট্য আছে বলে ধারণা না রাখা। ঈমানদার মুসলিমগণ তো ইসলামী শরীয়াত কর্তৃক নির্ধারিত দিনসমূহেই আনন্দ উপভোগ করে থাকে, পরস্পর শুভেচ্ছা (ও দূ‘আ) বিনিময় করে এবং তাতে যে সব নামায ও ইবাদত আছে তা পালন করে আনন্দ উদ্যাপন করে। আর মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ। মহররম মাসের রোজা রাখার কথা এবং বিশেষ করে এ মাসের ৯ ও ১০ তারিখে রোজা রাখার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু তার অতিরিক্ত ফজিলাত যে কোন্ ধরনের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তা আমার জানা নেই। “যে ব্যক্তি মহররম মাসের প্রথম ১০ দিন রোজা রাখল, সে যেন দশ হাজার বছর দিনে রোজা ও রাত্রে নফল ইবাদত করল, এ পরিমাণ সওয়াব তার আমল-নামায় লেখা হবে।” এই মাসে ইবাদত করলে শবেকদর রাত্রে ইবাদত করার মত সওয়াব লাভ হয়।” ইত্যাদি হাদীস কোথায় আছে এবং তার মান কি তা আপনি আপনার হুজুরকে জিজ্ঞাসা করুন। জিজ্ঞাসা করুন নিম্নের নামায ও তার খেয়ালী সওয়াব লাভের দলীল। মহররম মাসের প্রথম তারিখের রাত্রে ২রাকাআত সালাত; প্রত্যেক রাকাআতে সূরাহ ইখলাস ১১ বার পাঠ করা। এই রাত্রে আরো ৬ রাকাআত সালাত; প্রত্যেক রাকাআতে সূরাহ ইখলাস ১০ বার পাঠ করা। এতে জান্নাতে ২০০০ মহল লাভ হবে; প্রত্যেক মহলে ইয়াকুতের ১০০০ দরজা এবং পত্যেক দরজায় সবুজ রঙের তখতার ওপর হুর বসে থাকবে। ৬০০০ বালা দূর হবে এবং ৬০০০সওয়াব লাভ হবে! এই তারিখে দিনে ২ রাকাআাাত সালাত; প্রত্যেক রাকাআতে সূরাহ ইখলাস ৩ বার পাঠ করা। এতে দু জন ফেরেশ্তা বডিগার্ড পাওয়া যায় এবং সারা বছর শয়তানের খপ্পর থেকে নিরাপদ লাভ হবে। আশুরার রাত্রে ২রাকাআত সালাত; প্রত্যেক রাকাআতে সূরাহ ইখলাস ৩বার পাঠ করা। এতে কেয়ামত পর্যন্ত রৌশন থাকবে। এই রাতে আরো ৪ রাকাআত। প্রত্যেক রাকাআতে সূরাহ ইখলাস ৫০ বার পাঠ। এতে ৫০বছরের আগের ও পরের গুনাহ মাফ হয়! বেহেশেত ১০০০ নূরের মহল তৈরি হয়। এই দিনে রয়েছে আরো ৪ রাকাআত খেয়ালী নামায। অথবা জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে ৪ রাকাআত সালাত; যার প্রত্যেক রাকাআতে ফাতিহার পর আয়াতুল কুরসী ১০ বার পাঠ, সূরাহ ইখলাস ১১বার এবং নাস ও ফালাক্ব ৫বার পাঠ করা। নামায শেষে ইস্তিগফার ৭০বার। এ নামাযও বিদআত (মু’জামুল বিদা’ ৩৪০-৩৪১পৃঃ)। এই মাসের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত প্রত্যেক দিন জোহরের পর ৪ রাকাআত সালাত; প্রত্যেক রাকাআতে সূরাহ ইখলাস ১৫বার। এ নাময হযরত হাসান- হোসেনের রূহের উপর বখশে দিলে ক্বিয়ামতে তাঁদের নাকি সুপারিশ (!) লাভ হবে। —লেখক :সাংবাদিক