মির্জাপুরে নদী ভাঙ্গনে শতাধিক
গ্রাম হুমকির মুখে
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪২
মির্জাপুর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাঙ্গন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে রাস্তা-ঘাট, ফসলি জমি, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক গ্রাম বিলীন হতে চলেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানিয়েছেন। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রশাসন থেকে আজ পর্যন্ত গাইড বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লৌহজং নদীর তীর সংলগ্ন ধানকি, মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, উফুল্কী, বরাটি, সারুটিয়া, ইচাইল, দুল্লা, দেওহাটা, বহুরিয়া, কামারপাড়া, ওয়ার্শি ও নাগারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ২/৩ মাস ধরে থেমে থেমে ভাঙ্গন দেখা দিলেও ১৫/২০ দিন ধরে বর্ষার পানি কমতে শুরু করায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গনে মাঝালিয়া বাজার, গুনটিয়া ব্রিজ, বরাটি উচ্চ বিদ্যালয় ও হাট-বাজার, বহুরিয়া ও নাগরপাড়া বাজার হুমকির মুখে পড়েছে।
মির্জাপুর উপজেলার প্রাচীন ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরাটি নরদানা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, লৌহজং নদীর ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টির ৬/৭টি ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আরও ৫-৬টি ভবন হুমকির মুখে। বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় এমপিসহ মন্ত্রীর নিকট একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্ত বিদ্যালয়টিকে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য আজ পর্যন্ত গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। লৌহজং নদীর ব্যাপক ভাঙ্গনে বরাটি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাজারটিও এখন বিলীন হওয়ার পথে। অপরদিকে নদী ভাঙ্গনের ফলে বানাইল ইউনিয়ন, জামুর্কি, ভাদগ্রাম, মির্জাপুর পৌরসভার কিছু অংশ, বহুরিয়া এবং ওয়ার্শি ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আকতার চৌধুরী বলেন, লৌহজং নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা রক্ষার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন সে পরিমাণ বরাদ্দ না পাওয়ায় গাইড বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।