কাউখালীতে পরিত্যক্ত
স্কুল ভবনে পাঠদান
রবিউল হাসান রবিন, কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪৫
পুরনো স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রাণহানিও ঘটতে পারে। তাই জরাজীর্ণ এ স্কুল ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাণহানি এড়াতে বিকল্প শ্রেণী কক্ষে পাঠদানের পরামর্শও দেয়া হয়েছে। স্কুলে কর্তৃপক্ষের ওই চিঠি আসার পর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন ভবন ধসের আতংক। তারপরও স্কুল কর্তৃপক্ষ বিকল্প শ্রেণী কক্ষে পাঠদানের কোন ব্যবস্থা করতে না পারায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান অব্যাহত রেখেছে। ফলে শিশু শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ভবন ধসের আতংকের মধ্যে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
কাউখালী সদর ইউনিয়নের ২৪ নম্বর বাশুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর নিত্য আতংকে সেখানে ১৪০জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তামান্না আক্তার বলে, হুনছি স্কুলে চিডি আইছে আমাগো স্কুল ধইস্যা পড়তে পারে। অহন ক্লাসে বইলে খালি ডর লাগে। আমাগো নতুন স্কুল দরকার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে ৪জন শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত ১৪০ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদান চলছে। চার কক্ষের অতি পুরনো স্কুল ভবনটি বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ। ভবন জুড়ে ফাটল আর ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুঁইয়ে শ্রেণী কক্ষে পানি পড়ে। দরজা-জানালা ভাঙ্গাচোরা অবস্থা।শ্রেণী কক্ষের আসবাবপত্রেরও হতশ্রী দশা। ভবন ধসের আতংক আর নানা সংকটের মধ্যে ১৪০জন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীর এখানে নিত্য পাঠদান চলছে। সম্প্রতি স্কুল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ভবন ধসের আতংক বিরাজ করছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হক স্কুল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কর্তৃপক্ষকে বিকল্প স্থানে পাঠদানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের। এ বিষয়ে ওই দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে।