কর্মব্যস্ত কাজীপুরের কম্বল গ্রাম

শীত পড়তে শুরু করেছে। শীত নিবারণের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে এখানে। শীতের কম্বল তৈরি করতে কম্বল গ্রাম নামে খ্যাত কাজীপুরের ১৫টি গ্রামে চলছে ব্যাপক কর্মব্যস্ততা। শ্রমিকরা রাত-দিন কম্বল তৈরি করছে। শুরু হয়েছে পাইকারি কেনা-বেচা। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মহাজনরা কম্বল কিনতে কাজীপুরের কম্বল গ্রামগুলোতে ভীড় করছে। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা হলেও দাম একটু কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা কেনা-বেচা চলছে বেশ ভালো। উল্লেখ্য, গার্মেন্টস এর ঝুট কাপড় দিয়ে শীতের কাপড় তৈরি করে কাজীপুর উপজেলার ৩ সহস্রাধিক দরিদ্র পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। সামান্য পুঁজিতে বদলে যাচ্ছে এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতি। হত দরিদ্র এবং দুঃস্থদের প্রচেষ্টা এবং নিরলস শ্রমের কারণে প্রতি বছর এই পল্লী গ্রামগুলোর দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। দিনমজুর, কৃষক এবং অনেক নিঃস্ব পরিবার এখন লাখপতি। এই শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার বেকার যুবক-যুবতীর। গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় দিয়ে ব্লেজার, সোয়েটার এবং কম্বল নিপুণ হাতে তৈরি করছে এখানকার শ্রমিকরা। সারা বছরই তৈরি করা হয় এসব পোশাক। তবে চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শীত মৌসুমে কম্বল তৈরি করতে শ্রমিকরা রাত দিন কাজ করে থাকে। এখানকার ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে প্রতি বছর শীত মৌসুমে অন্তত ৬ কোটি টাকার কম্বল, সোয়েটার এবং ব্লেজার ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ঝুট কাপড়ের তৈরি বিভিন্ন পোশাক ও কম্বল পাইকারি দরে ট্রাক ভর্তি করে কিনে নিয়ে যায়। জেলা শহরের অভিজাত বিপণীতেও এখন কাজীপুরের তৈরি পোশাক বিক্রি হচ্ছে। ছালাভরা গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, এখন থেকে ১৬ বছর আগে তিনি ঢাকা থেকে ২শ টাকা মণ দরে গার্মেন্টস এর ঝুট কাপড় কিনে এনে সেলাই মেশিন দিয়ে শীত নিবারণের কম্বল ও অন্যান্য পোশাক তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। দাম কম হওয়ায় প্রথম অবস্থায় গরীব ও দুঃস্থরা এইসব পোশাক ক্রয় করে। পরবর্তীতে গুণগত মান ভালো হওয়ায় সকল শ্রেণীর মানুষ এসব পোশাক এবং কম্বল ব্যবহার করতে থাকে। বিশেষ করে কম্বলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে শিমুলদাইড়, কুনকুনিয়া, ছালাভরা, গাড়াবেড়, শ্যামপুর, ঢেকুরিয়া, বড়শিভাঙ্গা, বেলতৈল, চকপাড়াসহ ১৫টি গ্রামে ৪ হাজার সেলাই মেশিনে শীতের পোশাক ও কম্বল তৈরি করছে শ্রমিকরা। ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বেকারদের কর্মসংস্থানসহ শিল্পের আরো প্রসার ঘটানো সম্ভব। এই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নারী, শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ, যুবক সবাই পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত আছেন।