চ্যাম্পিয়নস লিগ

শেষ ষোলয় এবার বার্সেলোনা, অ্যাথলেটিকো

দুই স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে যোগ দিয়েছে। এর আগে প্রথম দুই দল হিসেবে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ এ আসরের শেষ ষোলয় যোগ দেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার সিটি। গত বুধবার রাতের খেলায় বার্সার আবার গোলের খাতা খোলেন লিওনেল মেসি। অপরদিকে ফর্মে থাকা অ্যারন র্যামসি’র গোলে আর্সেনাল জার্মানিতে ডর্টমুন্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়। এছাড়া চেলসি নিজ মাঠে জার্মান ক্লাব শালকের বিরুদ্ধে জিতে নকআউট পর্বে ওঠার পথেই আছে। বার্সেলোনা ‘এইচ’ গ্রুপের লড়াইয়ে গত বুধবার রাতে নিজেদের মাঠে এসি মিলানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এই নিয়ে টানা দশমবারের মত শেষ ষোলয় খেলা নিশ্চিত করলো। গত দুই বছরে উভয় দলের এটি ছিল অষ্টমবারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হওয়া। গত মাসে মিলানের সাথে প্রথম লেগে ১-১ গোলে ড্র করে বাধ্য হওয়া কাতালানদের জয়ে এই রাতে সমহিমায় ফেরেন গোল মেশিন লিওনেল মেসি। মেসি এর আগের তিন খেলায় গোল না করায় সমালোচকদের আলোচনার খোরাকে পরিণত হলেও ন্যু ক্যাম্পে দুই গোল দেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টিতে দলকে এগিয়ে দেবার পরে সেসক ফেব্রেগাসের জোগানে শেষের দিকে দারুণ এক গোল করেন। এর মধ্যে অবশ্য সার্জিও বাসকোয়েটও করেন এক গোল। অতিথিদের গোলটি আসে বিপক্ষের আত্মঘাতী প্রয়াসে। ৪৫ মিনিটে কাকার ক্রস থেকে জেরার্ড পিকের আত্মঘাতী গোলটিতে ব্যবধান কমায় মিলান। বাসকোয়েট স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কানাল প্ল¬াসকে বলেন, ‘আমরা জানতাম মেসির গোলের ধারায় ফিরে আসাটা কেবলমাত্র সময়ের ব্যাপার ছিল। কারণ তার সাথে কারো তুলনাই হয় না। গোলের সামনে সে সবসময়ই ফর্মে থাকে। আশা করছি এখন আর তার গোলের ধারা বন্ধ হবে না। আমরা নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছি। আমি মনে করি প্রথমার্ধে আমরা দারুণ খেলেছি। তবে আত্মঘাতী গোল খাওয়াটা লজ্জাজনক।’ ডাচ ক্লাব আয়াক্স এই গ্রুপের অপর খেলায় নিজেদের মাঠে সেলটিকের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ী হওয়ায় বার্সেলোনা দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসি মিলানের তুলনায় পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দল হিসেবেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে। গ্রুপে এখনো দুটি করে খেলা অবশিষ্ট থাকলেও অন্য কারো বার্সেলোনার উপরে যাবার কোন সম্ভাবনাই নেই। অ্যাথলেটিকো ‘জি’ গ্রুপে চার খেলায় শতভাগ সাফল্য নিয়ে টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবেই ২০০৮/০৯ সালের পরে এই প্রথম নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা পেলো। স্প্যানিশ ক্লাবটি নিজেদের মাঠে ৪-০ গোলে অস্ট্রিয়া ভিয়েনাকে উড়িয়ে দিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করে। প্রথমার্ধে তিনটি গোল করেন মিরান্ডা, রাউল গার্সিয়া এবং ফিলিপ লুইস। অপরদিকে পেনাল্টির সুযোগ নষ্ট করা দিয়েগো কস্তা শেষের দিকে একটি গোল করলে বড় জয় পায় অ্যাথলেটিকো। এটি ছিল চলতি মৌসুমে কস্তার ১৬তম গোল। ম্যাচ শেষে স্বস্তিতে থাকা অ্যাথলেটিকো বস দিয়েগো সিমিওন বলেছেন, এটা সত্যিই ভাল পারফরমেন্স ছিল এবং শেষ ১৬ তে যেতে পেরে আমি আনন্দিত। এখন আমরা বাকি দুটি ম্যাচে কিছুটা হলেও চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারবো। রাশিয়ার ক্লাব জেনিট সেন্ট পিটার্সবাগ ২০০৪ সালের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন পোর্তোর বিপক্ষে নিজেদের মাঠে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে অ্যাথলেটিকোর পেছনে থেকে গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। লুকো গঞ্জালেসের গোলে পর্তুগীজ ক্লাবটি এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে হাল্ক তার সাবেক দলের বিপক্ষে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। জেনিটের পক্ষে কাল ব্রাজিলিয়ান তারকা হাল্ক একইসাথে ম্যাচের নায়ক ও ভিলেন বনে যান। কারণ তার গোলেই সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তিনি পেনাল্টির সুযোগ নষ্ট করলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি জেনিটের। স্যামুয়েল ইতোর জোড়া গোলে চেলসি নিজেদের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে ‘ই’ গ্রুপের খেলায় শালকেকে ৩-০ গোলে হারায়। তৃতীয় গোলটি করেছেন ডেম্বা বা কোচ হোসে মরিনহো ইতোর খেলার প্রশংসা করেন। গ্রুপের অপর ম্যাচে বাসেল ১-১ গোলে স্টুয়া বুখারেস্টের সাথে ড্র করায় জার্মান ক্লাব শালকে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখে। অপরদিকে চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চেলসি বেশ ভালভাবেই শীর্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গতবারের রানার্স-আপ বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে ১-০ গোলে জিতে প্রথম লেগের জার্মানদের কাছে নিজের মাঠে হারের শোধ নিল প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল আর্সেনাল। ‘এফ’ গ্রুপে আগের খেলাতে লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে বরুশিয়ার কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল গানার্সরা। এ রাতে র্যামসি হেডে একমাত্র গোলটি করেন। এই জয়ে চার খেলায় ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে নিজেদের ধরে রাখলো আর্সেনাল। সমসংখ্যক খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে গতবারের ফাইনালিস্ট ও বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয় হওয়া বরুশিয়া।