মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, নাকি বিপক্ষে নিশ্চিত অবস্থান নিতে হবে

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষতার কোনো জায়গা নেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকবেন, না বিপক্ষে থাকবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত অবস্থান নিতে হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে জাতিকে কলঙ্কিত করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাই তাদের আন্দোলন মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিরোধী দল হরতালকে গণতান্ত্রিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। ইস্যুবিহীন হরতাল দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক হবে আগামীতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দেশে থাকবে, নাকি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি একাত্তরের মতো তাণ্ডব চালাবে। সেক্টর কমান্ডা ফোরামের সভাপতি কে এম শফিউল্লাহ বলেন, দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ চায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। কিন্তু বিচার অত্যন্ত ধীর গতিতে হচ্ছে। আগামীতে নির্বাচনে জয়ী হতে হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, বাংলাদেশ ক্রমশই একটি সামপ্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পরিনত হচ্ছে। তাই আগামী নির্বাচন শুধুমাত্র গণতন্ত্র রাক্ষার জন্যই নয় বরং নির্বাচন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আর সেই লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির মধ্যে আমাদের এখনও ঐক্য আছে। এ ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে। মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে সামপ্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক অজয় রায়, সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, মমতাজ বেগম এমপি, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া, গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা মাহমদুর রহমান বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।