পথে-ঘাটে

- আবার নাকি পাঁচ দিনে হরতাল দিচ্ছে। - আওয়ামী লীগও তো দিছিল। - মানুষের কথা কেউ ভাবে না। জিপিও এর সামনে গতকাল এমন আলাপে ছিলেন কয়েকজন। নিজের নিজের মত তুলে ধরছেন বিজ্ঞের মত। - আরে সেই দিন কি এখন আছে? এখন আর হরতালের দিন নেই। যেভাবে মেয়েটারে মেরেছে দেখা যায় না। সকালে তো আহতদের মধ্যে একজন মারাও গেছে। - সাধারণ মানুষ মরলে বিএনপির ফিল্ড নষ্ট হবে। - এসব না করলে মানুষ খুব বেশি বিরক্ত হতো না। - কি? মানুষ বিরক্ত হতো না? - বিরক্ত হওয়ার কি আছে। হরতাল এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। কোন কর্মসূচী নেই তো হরতাল দাও। - আরে ভাই গা সওয়া হয়ে গেছে আপনার ঢাকায়। কিম্বা যার কোন কাজ নেই তার। ফুর্তি ফুর্তি লাগে হরতালে। যার দিন এনে দিন খেতে হয় সে ঠিকই বোঝে হরতাল হলে কি হয়। আপনি তো কাজ না করেও মাস গেলে টাকা নেবেন। মাগার যার দৈনিক কাজ করে খেতে হয় তার খবর আছে। - আহ মেয়েটার জন্য খুব খারাপ লাগছে। যে কেউ দেখলে ভয় পাবে। ঐ মেয়েটার কি দোষ? তোর দাবি আদায় করতে হলে নেতাদের গিয়ে ধর। তাদের গিয়ে মার। তা-না। নিরীহ সাধারণ মানুষকে মারবে। কিছু একটা করে খায় তাকেই মরতে হয়। - খালেদা জিয়াকে এখন আলোচনায় যেতেই হবে। - আর কবে যাবে? মন্ত্রীরা সব গদি ছেড়ে দেয়া শুরু করেছে। নির্বাচন দিয়ে দিলে পরে আলোচনায় যাবে? - দেশ চালাবে কারা তা এখনো ঠিক হলো না। মন্ত্রীরা গদি ছাড়া শুরু করল। এটা কেমন হলো? - দুজনকেই নরম হতে হবে। না হলে সমাধান হবে কি করে? - আগে হরতাল হত মিছিল নিয়ে চলে যেত। এখন জ্বালাও পোড়াও ছাড়া কোন কথা নেই। গাড়ি ভাঙ্গ। বোমা মার। যে গাড়ি ভাঙ্গায় তার নিজের গাড়িও যে কাল ভাঙ্গতে পারে তা ভাবে না।