জাবিতে আন্দোলন প্রত্যাহারে আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফোরাম ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের বিনাশর্তে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও অন্যান্য সকল কমিটির কার্যক্রম, একাডেমিক কাউন্সিল সচল এবং ভর্তি কার্যক্রমসহ শিক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করার জন্য ভিসি ও আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী, সচিব, সংসদীয় কমিটি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে এবং একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে, কমিশনের রিপোর্ট ও সার্বিক বিষয়াদি রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে কতিপয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন, যা ভিসি আন্দোলনরত শিক্ষক ফোরাম ও শিক্ষক সমিতিকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। উপরোক্ত নির্দেশনার আলোকে ভিসি অবিলম্বে সিনেট নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সিনেটের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১১(১) ধারা অনুযায়ী ভিসি নিয়োগের প্যানেল তৈরি ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে করা রিট মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশা করে যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল মহল রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের নির্দেশনা পালন করবেন। ইউজিসি’র উদ্বেগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত সাম্প্রতিক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি তাদের এ উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন নির্বাচিত এবং চ্যান্সেলরপ্রাপ্ত নিয়োগকৃত ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখা অথবা তাঁর বাসভবনে অবস্থান নেয়া নাগরিক অধিকার পরিপন্থী এবং তা শিক্ষক সুলভ আচরণও নয়। এই ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করার এ প্রয়াস কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের কাছে এমনটা কারও কাম্য নয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সর্বোচ্চ ডিগ্রিপ্রাপ্ত জ্ঞান ও মেধার লালনকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে জাতি প্রত্যাশিত শিক্ষকসুলভ আচরণ আশা করে। অবরোধ ও অনধিকার প্রবেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বিজ্ঞপ্তিতে অনতিবিলম্বে শিক্ষকদের এ ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য উভয়পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়।