ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রত্যাহারে জাবি ভিসির আহ্বান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগ দাবিতে গঠিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের ব্যানারে গতকাল মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ভিসি টানা চতুর্থ দিনের মতো নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ থেকে শিক্ষকদের এ কর্মকাণ্ডকে ধংসাত্মক কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে শিক্ষকদের একটি অংশ ভিসির বাসভবন অবরোধের নিন্দা জানিয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। অচলাবস্থা নিরসনে চ্যান্সেলর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। দুপুরে ভিসির বাসভবনের সামনে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমাবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। সমাবেশ থেকে ভিসিকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে ফোরামের সমন্বয়ক অধ্যাপক মুহম্মদ হানিফ আলী বলেন, ভিসি নিজের কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তার চলে যাওয়াই একমাত্র সমাধান। সদস্য সচিব অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, আমরা জানি শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করার স্বার্থে আমাদের এ আন্দোলন। আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, অধ্যাপক রশিদ হারুন প্রমুখ। এদিকে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ‘সাধারণ শিক্ষক পর্ষদ’ ব্যানারে শিক্ষকদের একটি অংশ। দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে তারা নিন্দা জানান। তারা বলেন, কতিপয় শিক্ষক তাদের নিজের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন। আমরা এই স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারী শিক্ষক সমিতির কর্মসূচিকে তীব্র নিন্দা জানাই। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সাজেদ আশরাফ করীম, সোহেল আহমেদ, কাজী সাইফুল ইসলাম, ইব্রাহীম খালেদ, রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা প্রমুখ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারকে প্রশাসন চাকরি বিধি সংক্রান্ত চিঠি দেয়ায় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা অমর একুশের পাদদেশে এক মানববন্ধন করেন। ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। ধংসাত্মক কর্মকাণ্ডে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। টানা পঞ্চম দিন সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবারও অধিকাংশ বিভাগে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। প্রসাশনিক ভবনও ছিল তালাবদ্ধ। অচল হয়ে পড়েছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।