ক্লাস চালুর দাবিতে অনশন, অসুস্থ ৭ কুয়েট শিক্ষার্থী
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪১
আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের নবম ব্যাচের ৭ জন শিক্ষার্থী। এরা হলেন ইমরান, জুবায়ের, আকাশ, শুভ, রাহুল, রিজন এবং মানিক। এদিকে ক্লাস চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনশন করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাদের অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, অসুস্থদের মধ্যে জুবায়ের ও ইমরানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল হলে স্যালাইন দেয়া হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্লাস শুরু করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কুয়েটের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ১১৯ জন শিক্ষার্থীর ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। লিখিত বক্তব্যে সত্যজিত্ রায় বলেন, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পুরকৌশল বিভাগের সেন্ট্রাল ভাইভা নিয়ে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জোহানা শারমিন এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত টিম গঠন করেন। তদন্ত কমিটি ওই শিক্ষার্থীকে দোষী সাব্যস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে। জোহানা শারমিন উচ্চ আদালতে মামলা করলে আদালত বহিষ্কারাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও গত ৪ মে শিক্ষকরা তার পরীক্ষা নিতে অসম্মতি জানিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে।
সম্মেলনে বলা হয়, এরপর শিক্ষকরা গত ১৯ আগস্ট তাদের কর্মবিরতি তুলে নিয়ে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করেন। ৬ অক্টোবর চতুর্থ বর্ষের ক্লাস শুরুর রুটিন দেয়া হয়। কিন্তু ওই দিন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে গেলেও শিক্ষকরা ক্লাসে যাননি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ৯ম ব্যাচের কোন একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না বলে জানান। গত ৩ নভেম্বর ১১৯ জন শিক্ষার্থী ক্লাস শুরুর দাবিতে প্রশাসনিক ও পুরকৌশল ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অনশন শুরু করলেও গতকাল পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোন সাড়া দেয়নি।