গল্প নয় সত্যি
ভুলের কারণে অবিশ্বাস্য মূল্যছাড়!
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:০০
স্রেফ আদ্দি যুগের অফিসে বসে কাগজে-কলমে হিসেব করা কেরানীরাই যে ভুল করেন তা নয়। বরং ভুল হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে নামী সুপারস্টোরের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাতেও। আর শেষের এই কথাটির প্রমাণ হয়েই সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে সুপারশপ জায়ান্ট খ্যাত ওয়ালমার্টের একটি ভুল। অনলাইনে হূাসকৃত মূল্যে ক্রেতাদের জন্য বেশ কিছু পণ্যের অফার দিতে যেয়ে ওয়ালমার্ট তাদের কিছু পণ্য বিক্রি করেছে মূল দামেরও অনেক কমে। আর এসব কিছুই হয়েছে কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্য-ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে। গেল ১ নভেম্বর এ ধরনের বিক্রি শুরু করার পর ঠিক কী পরিমাণ ক্রেতা বা কত টাকার অর্ডার এভাবে লোকসান গুণে ওয়ালমার্টকে নিতে হয়েছে তা গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। এমনকি নিজেদের ভুলের কারণে অনেকটা পানির দামে বিক্রি করা ইলেকট্রনিক্স পণ্যগুলো ওয়ালমার্ট তাদের ক্রেতাদের শেষতক বুঝিয়ে দেবে কি না তা-ও জানানো হয়নি। তবে নিজেদের এই ভুলের কথা স্বীকার করে ওয়ালমার্টের একজন মুখপাত্র রবি জরিওয়ালা জানান, ‘তাদের ওয়েবসাইটে লক্ষাধিক পণ্যের সমাহার থাকলেও এই কারিগরি ত্রুটি শুধুমাত্র অল্প কিছু পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে।’ এদিকে গেল বুধবার রাত থেকেই মেইনটেইন্যান্সের কথা বলে ওয়েবসাইট বন্ধ করে রাখা ওয়ালমার্ট আরও জানিয়েছে যে শীঘ্রই কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে ক্রেতাদের কাছে ফিরে যাবে সুপারশপটির এই অনলাইন শপিং সুবিধা। এদিকে যেসব গ্রাহক ওয়ালমার্টের ভুলের সুযোগ নিয়ে তাদের অর্ডার দিতে পেরেছিলেন তারা জানিয়েছেন, মূলত ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দামের ক্ষেত্রেই এ জাতীয় অবিশ্বাস্য মূল্যছাড় চোখে পড়েছে তাদের। উদাহরণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে ১০০ ডলারের ট্রেডমিলের দাম ৩৩ ডলার এবং এলসিডি কম্পিউটার মনিটরের মতো পণ্য মাত্র ৯ ডলারে বিক্রির ঘোষণা দেখা যাচ্ছিল ওয়ালমার্টের অনলাইন সাইটে। উল্লেখ্য, শপার ট্রেক নামের একটি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে ২০০৯ সালের পর এ বছরই হলিডে সিজনে সবচেয়ে কম বিক্রির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। আর সেই আশঙ্কার কারণেই স্বাভাবিক সময়ের চাইতে এক মাস আগে বড় ধরনের মূল্যছাড় দিয়ে হলিডে সিজন ডিলের আওতায় বিক্রি শুরু করে ওয়ালমার্ট।