মায়ের অপেক্ষায় সজিব-শানু

সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনায় নিখোঁজ দিনাজপুরের ফুলবাড়ির বাসিন্দা গার্মেন্টস শ্রমিক গুলশানে জান্নাত শাবানার (২৯) সন্ধান আজও মেলেনি। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের পাশে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থেকেও জীবিত অথবা মৃত কোন অবস্থাতেই শাবানাকে পাননি তার স্বামী আতাউর রহমান ও ভাই ওয়াসিম আলী। ফলে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। শাবানার দুই অবুঝ শিশু সন্তান সজিব (৭) ও শানু (৪) এখনও প্রহর গুনছে মায়ের অপেক্ষায়। ফুলবাড়ি পৌর এলাকার পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে ও উপজেলার কাজিহাল ডাঙ্গা গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী গুলশানে জান্নাত শাবানা (২৯) সাভারে রানা প্লাজার ৬ষ্ঠ তলায় এক গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক ছিলেন। আর স্বামী আতাউর রহমান এনাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সিকিউরিটি শাখায় কাজ করতেন। ঘটনার দিন সকালে দুই শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নিজ নিজ কর্মস্থলে। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের পর শাবানা চাপা পড়েন ধ্বংসস্তূপের নিচে। দুর্ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্বামী আতাউর রহমান এবং ফুলবাড়ি থেকে শাবানার ভাই ওয়াসিম আলী। এর ক’দিন পরই শিশু সজিব ও শানুকে পাঠিয়ে দেয়া হয় তার দাদার বাড়ি ফুলবাড়ির কাজিহাল ডাঙ্গায়। এরপর থেকেই মায়ের অপেক্ষায় প্রহর গুণে চলেছে শিশু সজিব ও শানু। শাবানার ভাই ওয়াসিম আলী বলেন, ঘটনার পর পরই সাভারে গিয়ে হাসাপাতাল, মর্গে খুঁজতে খুঁজতে হাঁপিয়ে গেছি। কিন্তু বোনের কোন সন্ধান পাইনি। জীবিত না হলেও তার লাশটা পেলেও বাড়ির লোকজন হয়তো কিছুটা সান্ত্বনা পেতো। শাবানা যে আর বেঁচে নেই এটা নিশ্চিত। তবে তার দুই অবুঝ সন্তান এখনও জানে না তাদের মা এ পৃথিবীতে নেই, আর কোনদিন তাদের কাছে ফিরে আসবে না। কোন নারীকণ্ঠ শুনলেই দুই ভাইবোন ছুটে যায় বাড়ির বাইরে মা এসেছে বলতে বলতে। শিশু দুইটির এ আর্তনাদ দেখে বাড়ির সকলের চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বামী আতাউর রহমান বলেন, শাবানার জন্য ছেলেমেয়েরা সবসময় কান্নাকাটি করে। এখনও তারা ভাবে তাদের মা তাদের জন্য খেলনাসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে বাড়ি আসবে। যাদের কারণে এরা মা হারা হলো, তার সোনার সংসার ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শাবানার মতো নিহত শ্রমিকদের আত্মা শান্তি পাবে না।