বাংলাদেশের অস্থিরতায় অশান্ত হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ এশিয়া
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০২
আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বিরোধীদল বিএনপি ও শরিক জামায়াতে ইসলামী হরতাল ও সহিংস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও পাকিস্তান বিএনপি-জামায়াত জোটকে সমর্থন দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র দৃঢ় করা বিষয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা বক্তারা উড়িয়ে দেন। খবর:আইএএনএস।
ভারতের অন্যতম থিংক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য সোসাইটি ফর পলিসি স্টাডিজ’ আয়োজিত দিনব্যাপী এ গোলটেবিল আলোচনায় ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত দুই সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি ও পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতো কূটনীতিকরা অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকেও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সেমিনারে যোগ দেন।
বক্তারা বলেন, ভারতের অবস্থানকে ‘সুবিধা-জনক’ দৃষ্টিতে দেখার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ধর্মীয় মৌলবাদের মোকাবিলাও শক্ত হাতে করতে হবে। মৌলবাদের মোকাবেলা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে না পারলে কয়েক বছর ধরে উন্নয়নের যে ধারা অব্যাহত রয়েছে তা ব্যাহত হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। এ সময় তারা আরো বলেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অবস্থা ভালো। দেশটির সামাজিক ও মানব উন্নয়নের সকল সূচক ভারতের চেয়ে ভালো।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আর যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান বিরোধীদল বিএনপিকে সমর্থন দিতে অগ্রসর হচ্ছে। যে কারণে সুবিধাবাদী জামায়াত বিএনপির উপর চড়ে বসেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে জামায়াতে ইসলামী একটি সহিষ্ণু রাজনৈতিক দল। যুক্তরাষ্ট্রের এ যুক্তি ভুল। এর মাধ্যমে শুধু জামায়াত তাদের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারছে। পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব থেকে তারা তহবিলও পাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বিষয়ে ভারত কিছু না করলেও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারত সব সময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর বলে বিবেচিত। ভারত এক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন দেখিয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধাচারণ সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেছে ভারত।
এ বিষয়ে আরেক সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বলেন, প্রতিবেশীদের উপেক্ষা করে যে বড় শক্তি হওয়া যায় না সেটা ভারত বুঝেছে। সে কারণেই বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় মিত্র। সে কারণেই ভারতের দাদাগিরির অভিযোগও আগের মতো আর ওঠে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে বুঝতে হবে, ভারতের বিশালত্ব তার কাছে দুশ্চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি সম্ভাবনার। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি যত শক্ত হবে অর্থনৈতিক বিকাশও হবে তত বেশি। তবে নির্বাচনকে ঘিরে অচলাবস্থা এবং মৌলবাদের মাথাচাড়া দেয়ার বিষয়টি আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি বলেন, জামায়াত ও হেফাজত বাংলাদেশে অস্থিরতা আনতে চাইছে। বিএনপির মেয়াদেও জামায়াত এ কাজই করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান আবুল বারকাত, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ হোসেন ও তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিম বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রী, শান্তিপ্রিয় ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের কাছে মৌলবাদ এ মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তারাও।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা ভারতীয় কূটনীতিকেরা উড়িয়ে দেন। পিনাক রঞ্জন বলেন, এ প্রবণতা দূরীকরণে জাতিসংঘের অবদান প্রবল। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বর্তমান অবস্থানের বিপরীত আর কিছু করতে আগ্রহী নয়। গোলটেবিল আলোচনায় তিস্তা ও স্থল সীমান্ত চুক্তি সম্পাদিত না হওয়া ও বাংলাদেশের হতাশার বিষয়টি উঠে আসে।