সামি রোহিতের স্বপ্নীল অভিষেকে ভারতের বিশাল জয়
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৩
শচিন টেন্ডুলকারকে আরেকবার ব্যাট হাতে না দেখতে পাওয়া নিয়ে কলকাতাবাসীর দুঃখ হতে পারে। জীবন্ত কিংবদন্তী হয়ে ওঠা ব্যাটসম্যানটি নিজেও অনুতাপবিদ্ধ হতে পারেন। কিন্তু পুরোদস্তুর পেশাদার দল ভারতের সে সুুযোগ নেই। তাই অভিষেকেই দুর্দান্ত বল ছোঁড়া পেসার মোহাম্মদ সামির রিভার্স সুইংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কলকাতা টেস্টের তৃতীয় দিনেই এক ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে দিল ভারত।
ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি জয় শেষে বলেন,‘আমি মনে করি এটা অসাধারণ পারফর্মেন্স। ব্যাটিংয়ের জন্য দ্বিতীয় দিনটি ছিল কঠিন। পরে উইকেট ভাল হয়ে আসে। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আমাদের সাহায্য করে। সামি ছিল দারুণ। সে সঠিক লেংথ খুঁজে পায়। এটাই তার নয় উইকেট পাওয়ার কারণ। রোহিতের ব্যাট করতে দেখাটাও ছিল চোখ জুড়ানো।’ অপরদিকে বিপক্ষ অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি বলেন,‘আমরা ভাল একটা অবস্থান থেকে নিজেদের বিসর্জন দেই।’
গতকাল শুক্রবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে জয়ের সুবাদে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। মূলত অভিষেক ম্যাচে রোহিত শর্মা ও রবিচন্দন অশ্বিনের সেঞ্চুরি ও সামির দুই ইনিংস মিলিয়ে নয় উইকেট দখলের কৃতিত্বই স্বাগতিকদের প্রথম টেস্টে অমন অনায়াস জয় এনে দেয়। এর মধ্যে অশ্বিন নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিটির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট দখল করেন। ফলে ক্যারিবীয়রা নিজেদের দ্বিতীয় পালায় মাত্র ১৬৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। ভারত এর আগে ৪৫৩ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে গেলেও বিপক্ষের চাইতে ২১৯ রানে এগিয়ে গিয়েছিল।
রোহিত শর্মা নিজের অভিষেকে ১৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। এটি খেলা শেষে তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার এনে দেয়। সব মিলিয়ে শচিনের বিদায়ী সিরিজে তাকে ছাড়িয়ে যায় তিন তরুণ সতীর্থ।
মোহাম্মদ সামির দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭ রানে নেয়া পাঁচ উইকেট দখলের নৈপুণ্যই মূলত খেলাটিকে তিনদিনের মাথায় শেষ করে দেয়। নিজের মাঠ ইডেনে দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি ১১৮ রানে নয় উইকেট দখল করে অভিষেকটিকে স্বপ্নিল করে তুললেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অভিষেকে সেরা নৈপুণ্যের তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থানে থাকলো। সবার উপরে আছেন নরেন্দ্র হিরওয়ানি যিনি ১৯৮৮ সালে চেন্নাইয়ে ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধেই ১৩৬ রানে ১৬ উইকেট নিয়েছিলেন।
রোহিত শর্মা অবশ্য নিজের অভিষেককে আরো স্মরণীয় করে রাখতে পারতেন। কিন্তু ছয় ঘণ্টা নয় মিনিট ক্রীজে থাকা রোহিত পেরমলের সরাসরি আসা বলটি বুঝতে না পেরে উইকেট খোয়ান।
কিন্তু ২৩ রানের ঘাটতিতে আউট হয়ে গেলে তিনি ডাবল সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। ৩০১ বলের মোকাবেলায় ২৩টি চার ও এক ছক্কার মারে ১৭৭ রান তুলে থেমে যান তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে অশ্বিনের সাথে মিলে সপ্তম উইকেটে ২৮০ রানের ভাগিদারী গড়েন রোহিত। মূলত দুজনের এই প্রয়াসেই অতিথিদের রানের চাপে ফেলতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। অশ্বিনের ২১০ বলের ইনিংসে ছিল ১১ বাউন্ডারির মার। শিখর ধাওয়ানের (অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৮৭) পর শর্মাই হলেন অভিষেকে দেড়শতাধিক রান করা দ্বিতীয় ভারতীয়। এছাড়াও দুজনের তোলা সংগ্রহটি সপ্তম উইকেটে ভারতের মধ্যে সেরা, টেস্ট ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ড্যারেন স্যামির দল এদিন সকালের পালার মাঝামাঝিতে শর্মাকে আউটের পর ভারতকে বেশিদূর এগুতে দেয়নি। কেননা ওই পালাতেই ধোনির দল মাত্র ১৭ রানের সঞ্চয়ে শেষ চারটি উইকেট খোয়ায়। অফ স্পিনার শিলিংফোর্ড ১৬৭ রানে ছয় উইকেট দখল করেন। এ নিয়ে পাঁচবার পাঁচ উইকেট দখলের কৃতিত্ব দেখালেন তিনি।
এটি ছিল ভারতের টানা পঞ্চম টেস্ট জয়। এর আগে তারা অস্ট্রেলিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। অপরদিকে এ হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টানা ছয় টেস্ট জয়ের ধারায় ছেদ পড়লো।
ক্যারিবীয়রা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে এক উইকেটে তোলা ১০১ রানের সঞ্চয়ের সাথে আর মাত্র ৬৭ রান যোগ করেই ভারতকে বড় জয় উপহার দেয়। এখন উভয় দল মুম্বাইয়ে যাবে সিরিজের শেষ টেস্ট খেলতে। এটি আবার শচিনের বিদায়ী টেস্ট।