মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়কত্ব
রোহিত শর্মার টার্নিং পয়েন্ট
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৩
সুনিল গাভাস্কারের মতে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নেতৃত্ব দেয়াটাই রোহিত শর্মার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনে বৃহস্পতিবার নিজের অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করা ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার চলতি বছর আইপিএলে মুম্বাই দলের নেতৃত্ব দেন। মূলত ফর্মহীন রিকি পন্টিংয়ের সেরা একাদশে জায়গা না পাওয়ার কারণেই রোহিতকে মুম্বাইয়ের অধিনায়কত্ব দেয়া হয়।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক গাভাস্কার এনডিটিভি চ্যানেলকে বলেন, ‘আমার মনে হয় মুম্বাই দলের নেতৃত্ব দেয়ার পর থেকে রোহিত তার উইকেটের মূল্য বুঝতে পেরেছে। সে ক্রিজে টিকে থাকতে এবং তার দায়িত্বটা শেষ করতে শিখেছে। একজন অধিনায়ক হিসেবে অধিকতর দায়িত্বশীল হয়েছে।’
ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক ভারত ৮৩ রানে প্রথম পাঁচটি উইকেট খোয়ানোর পর রোহিত হাল ধরেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজের ইনিংসের পাশাপাশি দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৭৩ রান করার পর অষ্টম উইকেটে রবী চন্দ্র অশ্বিনের সাথে ১৯৮ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষেই ভারতকে প্রথম ইনিংসে ১২০ রানে এগিয়ে দেন রোহিত। এ প্রসঙ্গে গাভাস্কার বলেন, ‘সত্যিই রোহিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের বেশ ভালভাবে সামাল দিয়েছে। উইকেট থেকে শেন শিলিংফোর্ড যেভাবে ফায়দা নিয়েছেন সেটা খুব ভালভাবে সামাল দিয়েছে সে। অন্য ব্যাটসম্যানদের পথে না হেঁটে রোহিত বেশ ভালভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে।’
গাভাস্কার বলেন, শর্মার দৃষ্টিভঙ্গিতে এমন পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিম ম্যানেজমেন্টকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘তার সত্যিকারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাকে বুঝতে শিখিয়েছে। অধিকন্তু এ কৃতিত্ব ধোনির, কেননা রোহিতের মধ্যে বিশেষ কিছু আছে সেটা অনুধাবন করতে পেরেছে এবং বিশ্বাস রেখেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রোহিতের পরিপক্বতা পরিষ্কার বুঝা গেছে। এমনকি নিজে সেঞ্চুরি পাওয়ার পরও দলের ভাল একটা অগ্রগামিতা নিশ্চিত করতে সে ক্রিজে টিকে রয়েছে (দ্বিতীয় দিন প্রসঙ্গে)। অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি পাওয়ার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু রোহিত একজন দায়িত্বশীল ব্যাটসম্যানের পরিচয় দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল ব্যাটসম্যানের মতই তার মধ্যে দলের লক্ষ্যটা প্রতীয়মান হয়েছে।’ বাসস
স্কোরকার্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস ২৩৪
ভারত ১ম ইনিংস (আগের দিনের: ৩৫৪/৬)
ধাওয়ান ব শিলিংফোর্ড ২৩
বিজয় ক রামদিন ব শিলিংফোর্ড ২৬
পুজারা ক রামদিন ব কোট্রেল ১৭
টেন্ডুলকার এলবি ব শিলিংফোর্ড ১০
কোহলি ক পাওয়েল ব শিলিংফোর্ড ৩
রোহিত এলবিডব্লিউ ব পেরমল ১৭৭
ধোনি ক রামদিন ব বেস্ট ৪২
অশ্বিন ব শিলিংফোর্ড ১২৪
ভুবনেশ্বর কুমার ক গেইল ব শিলিংফোর্ড ১২
সামি স্টা রামদিন ব পেরমল ১
প্রজ্ঞান ওঝা অপরাজিত ২
অতিরিক্ত ১৬
মোট (১২৯.৪ ওভারে অলআউট) ৪৫৩
উইকেট পতন:১- ৪২ (ধাওয়ান), ২-৫৭ (বিজয়), ৩-৭৯ (পুজারা), ৪-৮২ (টেন্ডুলকার), ৫-৮৩ (কোহলি), ৬-১৫৬ (ধোনি), ৭-৪৩৬ (রোহিত), ৮-৪৪৪ (অশ্বিন), ৯-৪৫১ (ভুবনেশ্বর), ১০-৪৫৩ (সামি)।
বোলিং: বেস্ট ১৭-০-৭১-১, কোট্রেল ১৮-৩-৭২-১, শিলিংফোর্ড ৫৫-৯-১৬৭-৬, পেরমল ২৩.৪-২-৬৭-২, স্যামি ১২-১-৫২-০, স্যামুয়েলস ৪-০-১২-০।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস
গেইল ক কোহলি ব ভুবনেশ্বর ৩৩
পাওয়েল এলবিডব্লিউ ব অশ্বিন ৩৬
ব্রাভো ক শর্মা ব অশ্বিন ৩৭
স্যামুয়েলস এলবিডব্লিউ ব সামি ৪
চন্দরপল অপরাজিত ৩১
রামদিন ক বিজয় ব সামি ১
স্যামি ব সামি ৮
শিলিংফোর্ড ব সামি ০
পেরমল রান আউট (ধোনি) ০
বেস্ট ক ওঝা ব অশ্বিন ৩
কোট্রেল ব সামি ৫
অতিরিক্ত ১০
মোট (৫৪.১ ওভারে অলআউট) ১৬৮
উইকেট পতন: ১-৩৩ (গেইল), ২-১০১ (পাওয়েল), ৩-১১০ (স্যামুয়েলস), ৪-১২০ (ব্রাভো), ৫-১২৫ (রামদিন), ৬-১৫২ (স্যামি), ৭-১৫২ (শিলিংফোর্ড), ৮-১৫২ (পেরমল), ৯-১৫৯ (বেস্ট), ১০-১৬৮ (কোট্রেল)।
বোলিং: ভুবনেশ্বর কুমার ৬-১-২০-১, সামি ১৩.১-০-৪৭-৫, অশ্বিন ১৯-২-৪৬-৩, ওঝা ১৩-৩-২৭-০, টেন্ডুলকার ৩-০-১৮-০।