কেমন করে মিটবে পানির অভাব
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩০
আমাদের দেশ বৃষ্টিপ্রধান দেশ। এদেশে পানি সংকট থাকার কথা নয়; তদুপরি পানি আমাদের থেকে দূরে চলে যাচ্ছে অর্থাত্ নিচের স্তরে নেমে যাচ্ছে। আমাদের ব্যবহার্য পানি মূলত নলকূপের পানি। বর্তমানে আমরা যে পানি ব্যবহার করছি তা বহু বছরের নিংড়ে চুয়ে পড়া গভীর বা নিচু স্তরের পানি। পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমান্বয়ে (৫০/৬০ বছরের মধ্যেই) পানি ২০/৩০ ফুট থেকে ৬০০/৭০০ ফুট পর্যন্ত নিচুতে নেমে যাচ্ছে যা ভাবা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভূবিষ্যতে পানির অভাবে দেশের সবকিছুই বিকল অচল হয়ে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমার ভাবনায় কিছু বিশেষ কাজ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশে পানির এই সংকট দূর করা সম্ভব হতে পারে।
আমাদের দেশে প্রতিবছর যে বৃষ্টিপাত হয় তার শতকরা ১৫/২০ ভাগ পানি আমরা বিভিন্নভাবে ধরে রাখতে পারি, বাকি সবটুকু নদী বয়ে সাগরে গিয়ে পড়ে। আমরা যদি এ সাগরে যাওয়া পানির কিছুটা বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভে মজুদ রাখতে সক্ষম হই তবেই এ সংকট কাটতে পারে, যার কোনো বিকল্প নেই। এটা শুধু আমাদের দেশেই সম্ভব। কারণ আমাদের দেশটা পুরোটাই প্রায় সমতল এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ও কিছুটা পশ্চিমে ঢালু। দেশের ভূগর্ভে পানিশূন্য যে স্তরগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে কাছাকাছি রয়েছে সেগুলোকে প্রকল্পের মাধ্যমে পানিপূর্ণ করা যেতে পারে, যা নদী বয়ে যাওয়া বর্ষণের অতিরিক্ত পানি। এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেশে পড়বে না। প্রয়োজনে ভূগর্ভের পানিশূন্য বালি স্তরে বাঁধের সৃষ্টি করতে হবে। এই বাঁধ তৈরি মেশিন এখনো বিশ্বের কোনো দেশে তৈরি হয়নি। যে মেশিনের নাম হবে মেগাওয়াটার প্রটেক্টর ওয়াল বিল্ডারস মেশিন। যা দিয়ে মাটির নিচে বালি স্তরে ১০০ ফুট গভীরে পর্যন্ত দেশীয় বিভিন্ন মালামালের মাধ্যমে পানিকে বেঁধে রাখার দেয়াল তৈরি করা যেতে পারে। এ শুধু আমাদের দেশেই সম্ভব। বিশেষ করে ঢাকায় এ প্রকল্প ১০০% ফলদায়ক হতে পারে। এতে যে পানি পাওয়া যাবে তা সম্পূর্ণ আর্সেনিকমুক্ত ও সহজলভ্য হবে। ঢাকায় বসবাসরত লোকজনকে ওয়াসার পানির অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
এটা সহজে অনুমেয় যে, ৫০/৬০ বছর আগে ঢাকায় প্রায় প্রতি বাড়িতেই হাতকলের মাধ্যমে পানির প্রয়োজন মেটানো হতো, তখন পানি আনুমানিক ৩০/১০০ ফুটের মধ্যেই পাওয়া যেতো। আমরা যদি ঐ আগের শুকিয়ে যাওয়া পানি স্তরে বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে পানি ভূগর্ভে নিতে পারি, তবে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই বিশাল আকারের এক পানি ধারণ পাত্রের সৃষ্টি হতে পারে। যার অনুমানিক ব্যাস ১৫ কিলোমিটার হতে পারে। যাতে করে ভূগর্ভস্থ বাঁধ ও মেশিনসহ প্রকল্প তৈরিতে একবারই বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, পরবর্তী সময়ে তা যুগ যুগ চলতে থাকবে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে। দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই প্রকল্পের কাজগুলো সহজেই করা সম্ভব হবে। গ্রামের লোকেরা সমবায়ের মাধ্যমে নিজ খরচায় প্রকল্প তৈরি করতে সক্ষম হবে, শুধু প্রযুক্তি সহায়তা দিলেই চলবে। দেশের পানি সম্পদ বিভাগীয় প্রধানগণ সরকারি অর্থ, জনবল কাজে লাগালেই এর সমাধান করা সম্ভব হবে। দেশের সকল স্তরে পানি সহজলভ্য হবে। বিদ্যুত্ খরচ অনেকাংশে কমে যাবে। দেশের সর্বস্তরে উত্পাদন বাড়বে। আগের মতো দেশে সকল নদী-খাল-বিলে সারা বছর পানির প্রাচুর্য থাকবে এবং পানির কোনো ঘাটতি হবে না। ইনশাল্লাহ।
দিনাজপুর