আক্রমণাত্মক মনোভাব পাল্টাচ্ছে না রিয়াল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াই শেষে লা লিগার ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ আজ মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল সোসিয়েদাদের। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এই ম্যাচেও সেই পরিচিত আক্রমণাত্মক রিয়ালকেই দেখা যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্লাবের কোচ এবং অধিনায়ক। যদিও তারা দুজনেই স্বীকার করেছেন দলের রক্ষণ দুর্বলতার কথা। এদিকে রাতের অন্যান্য ম্যাচে মাঠে নামবে অ্যাথলেটিকো বিলবাওসহ মোট ছয়টি দল। লা লিগায় সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্টরা প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে মোট ১৬ বার। এর বিপরীতে রিয়ালকে হজমও করতে হয়েছে নয়টি গোল। রিয়ালের মতো কোন ক্লাবের জন্য ব্যাপারটা দুশ্চিন্তারই বটে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে জুভেন্তাস স্টেডিয়ামেও স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে দুই গোল হজম করতে হয়েছে রেকর্ড নয়বারের ইউরোপ সেরা ক্লাবটির। যদিও ঐ ম্যাচে ড্র করে নকআউট পর্বে উত্তরণের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। একদিকে স্ট্রাইকাররা গোল করে যাচ্ছেন, আর অন্যদিকে রক্ষণ দুর্বলতায় গোল হজমও করতে হচ্ছে প্রায় প্রতি ম্যাচেই। এ মৌসুমে লিগে নিজেদের ১২ ম্যাচে মাত্র দু’বারই প্রতিপক্ষকে গোলবঞ্চিত করতে পেরেছেন রিয়াল ডিফেন্ডাররা। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চার ম্যাচের তিনটিতেই প্রতিপক্ষ বল পাঠিয়েছে রিয়ালের গায়ে। তবে এরপরও নিজেদের কৌশল থেকে একচুলও সরতে রাজি নন রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি। আর তার কারণটাও স্পষ্ট। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, গ্যারেথ বেলকে দুপাশে রেখে মাঝে করিম বেনজামাকে নিয়ে সাজানো রিয়ালের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগকে এই মুহূর্তে ইউরোপের সেরা বলবেন অনেকেই। অন্তত পরিসংখ্যান বলছে সে কথাই। সর্বশেষ তিন ম্যাচে রিয়ালের আক্রমণভাগের এই তিন সেনানীর কাছ থেকে এসেছে ১২ গোল। যার মধ্যে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রোনালদোর পা থেকেই এসেছে ছয় গোল। পাশাপাশি একটি গোলে সাহায্যও করেছেন এই পর্তুগিজ সুপারস্টার। অন্যদিকে জুভেন্তাসের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই রিয়ালের সাদা জার্সি গায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের খাতা খোতা বেলের পা থেকে এসেছে তিনটি গোল। হোয়াইট হার্ট লেন থেকে বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্পেনের রাজধানী শহরে নতুন ঠিকানা খুঁজে নেয়া এই ওয়েলস তারকা সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন চারটি গোল। আর ফরাসি বেনজামা তিনটি গোল করানোর পাশাপাশি নিজেও করেছেন তিনটি গোল। ক্রমেই দারুণ এক আক্রমণ জুটি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়া এই তিন স্ট্রাইকারই সাহস যোগাচ্ছে ব্লাঙ্কোস অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসকে। দলের রক্ষণ আরেকটু জমাট হলে মাঠে নামার আগে রিয়াল তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে ফেলতে পারে বলেই ক্যাসিয়াসের বিশ্বাস! স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের কি করার সামর্থ্য আছে। গত কয়েক ম্যাচে আমরা বেশকিছু গোল হজম করেছি বটে, তবে রক্ষণকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে আমরা প্রতিনিয়তই চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের (আক্রমণভাগের) যে সামর্থ্য তাতে সামনের ম্যাচগুলোতে আমরা আরো বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারবো। সুতরাং নিজেদের গোলপোস্ট আগলে রাখতে পারলে বলেই দেয়া যায়, আমরা তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ছি।’ এদিকে সমালোচনা সত্ত্বেও নিজের রক্ষণ কৌশলেই অনড় থাকছেন হোসে মরিনহোর উত্তরসূরী হিসাবে রিয়ালের দায়িত্ব নেয়া অ্যানচেলোত্তি। তুলনামূলক বিচারে অনেকটাই অনভিজ্ঞ রাফায়েল ভারানের ভুলের কারণেই জুভেন্তাসের বিরুদ্ধে দুই গোল হজম করা প্রসঙ্গে এই সাবেক জুভেন্তাস কোচ বলেন, ‘(দানি) কারভাজাল এবং (আলভারো) আরবেওলা ম্যাচের জন্য ফিট ছিল, কিন্তু আমাদের মাঠে জুভেন্তাস বারবারই লম্বা পাসে খেলার চেষ্টা করছিল। আর তাই বাতাসে বলের দখল রাখতেই রামোস এবং ভারানেকে খেলানো হয়।’ আজকের ম্যাচ রিয়াল মাদ্রিদ-রিয়াল সোসিয়েদাদ গেটাফে-এলচি অ্যাথলেটিকো বিলবাও-লেভান্তে সেল্টা ভিগো-রায়ো ভালেকানো