বাদ যায়নি ইলিয়াস আলীর পরিবারও :৬ জন গ্রেফতার
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৯
অত্যাধুনিক সফট্ওয়ার তৈরি করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করে আসছে একটি চক্র। নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ একাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার থেকে চক্রটি এভাবে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। এমনই অপরাধী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, এই চক্রের প্রতারণা থেকে রেহাই পায়নি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারও। ইলিয়াস আলীর মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রীকে ফোন করে প্রতারণা করে। একইভাবে নিখোঁজ যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা তুহিন, নারায়ণগঞ্জের পারভেজের পরিবারের সাথেও প্রতারণা করে এই চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এধরনের প্রতারক চক্র আটক বাংলাদেশে এই প্রথম।
এব্যাপারে গতকাল র্যাব সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান জানান, এই চক্রের হোতা শাহাদতের সাথে ২০১১ সালে আইটি বিশেষজ্ঞ মাজহারুল ইসলাম হিরু ও মিজানুর রহমানের পরিচয় হয়। পরে ভিওআইপি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ওয়ার্ক ফার্মের সহযোগিতায় শুরু করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি। পুরাতন পত্রিকা ক্রয় করে নিখোঁজ সংবাদ থেকে তালিকা করে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে। প্রতারকরা সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে এবং তার ব্যবহূত মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে নিজস্ব অত্যাধুনিক সফট্ওয়ারের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তির ফোন নম্বর থেকে পরিবারের সদস্যদের মোবাইলে ফোন দিয়ে র্যাব, ডিবি, পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলে তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন। গোপনে ছাড়িয়ে নিতে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। তখন নিখোঁজদের পরিবার বিশ্বাস করে বিকাশে টাকা পাঠায়। এরপর তারা আর যোগাযোগ করেন না। এভাবে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত চক্রের হোতা শাহাদাত হোসেন বেপারী স্বীকার করেন তারা এভাবে প্রথমে যশোরের নিখোঁজ আওয়ামী লীগ নেতা তুহিনের পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আদায় করেন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর মোবাইল নম্বর থেকে একইভাবে তার স্ত্রীকে ফোন দেয়া হয়। এসময় ফোনে বলা হয় ইলিয়াস আলী তাদের কাছে আটক আছে। ১ লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেয়া হবে। জবাবে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী বলেছেন, তার সাথে ইলিয়াস আলীকে কথা বলাতে পারলে আরো বেশি টাকা দিবেন। কিন্তু সে ব্যবস্থা করতে না পারায় টাকা দিতে রাজি হননি। পরবর্তীতে আবারো ইলিয়াস আলীর মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, ইলিয়াস আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হবে। এজন্য খরচ দিতে হবে। তখন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপর আর ফোন দেয়া হয়নি। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের নিখোঁজ পারভেজের পরিবারকে ফোনে যোগাযোগ করার পরই র্যাব তাদের ধরে ফেলে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে শাহাদাত হোসেন বেপারী, মহিউদ্দিন খান ওরফে মাহী, মিঠুন সরকার, সুরুজ শেখ ওরফে শামীম, মাজহারুল ইসলাম ওরফে হিরু ও মিজানুর রহমান।