শিরোপার পথে সিদ্দিকুর
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৪
ভারতে চলমান হিরো ইন্ডিয়ান ওপেন গলফের তৃতীয় দিনে তিন রাউন্ড শেষে পারের চেয়ে ১৭ শট কম খেলে একক ভাবে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশের সিদ্দিকুর রহমান। আজ শেষ দিনে খুব খারাপ কিছু না করলে দেশসেরা এই গলফারের শিরোপা জয় অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়।
২০০৭ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরুর পর চলতি মৌসুমেই নিজের সেরা খেলাটা খেলছেন জানিয়ে লোকাল হিরো এস. এস. পি চৌরাশিয়াকে পেছনে ফেলে শীর্ষে থাকা সিদ্দিকুর বলেন, ‘দারুন একটা সপ্তাহ কাটছে। ক্যারিয়ারের সেরা খেলাটাই এই মুহুর্তে খেলছি আমি। বল পকেট করা এবং হিট করা, দুটোতেই দারুন ছন্দ পাচ্ছি। যখন ব্রূনাইতে (প্রথম এশিয়ান ট্যুর জয়ের টুর্নামেন্ট) খেলেছি, তখন এশিয়ান ট্যুর কার্ড বাঁচিয়ে রাখতে আমাকে রক্ষনাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে হয়েছিল। তবে এখন আর আমাকে টাকার জন্য খেলতে হয় না। এই মুহুর্তে আমার লক্ষ্য কিছু অর্জন করা।’
শনিবার তৃতীয় রাউন্ডে মোট পাঁচবার পারের এক শট কম খেলার (বার্ডি) কৃতিত্ব দেখান সিদ্দিকুর। তাছাড়া এই রাউন্ডে প্রথম পাঁচজনের মধ্যে কেবল সিদ্দিকুরই কোন বল গর্তে ফেলতে পারের চেয়ে বেশি শট খেলতে হয়নি। প্রথম দুই দিনের মতোই তৃতীয় দিনেও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা সিদ্দিকুর দিনের শেষ হোলে কিছুটা বেকায়দায় পড়ে যান। পাঁচ পারের ঐ হোলে তার বলটি গর্তে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে এসেই শেষ পর্যন্ত ‘বার্ডি’ করেন তিনি।
দিন শেষে সিদ্দিকুরের কণ্ঠেও ১৮ নম্বর অর্থাত্ শেষ হোলে সাফল্য পাওয়ার তৃপ্তি। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘কোনো বোগি ছাড়া একটা পুরো রাউন্ড শেষ করতে পারা সব সময়ই আনন্দের। এটা যে করতে পারবো, তা আমি ভাবতেই পারিনি। ১৮ নম্বরটা ছিল আমার সেরা বার্ডি। তৃতীয় শটটা ছিল বেশ কঠিন আর সহজ বার্ডির জন্য ঐ শটে আমাকে হোলের খুব কাছে বল নিতে হতো। বার্ডি পাওয়ার ব্যাপারে আমার ভীষণ আত্মবিশ্বাস ছিল। যদিও ভাবতেই পারিনি বলটা হোলের এত কাছাকাছি পৌঁছাবে।” প্রথম রাউন্ডে ছয়টি বার্ডির ফলে পারের চেয়ে ছয় শট কম খেলেছিলেন সিদ্দিকুর।
আর শুক্রবার দ্বিতীয় রাউন্ডে ছয়টি বার্ডির পাশাপাশি একটিতে ‘ঈগল’ (কোনো হোলে পারের চেয়ে দুই শট কম খেলা) করলেও দুটি ‘বোগি’ করায় দুই রাউন্ড মিলে ১২ শট কম নিয়ে এককভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি।
দিল্লি গলফ ক্লাবে এখনো পর্যন্ত শিরোপা জিততে না পারলেও এখানে অনেক সুখস্মৃতি রয়েছে তার। ২০১১ সাল থেকে এখানে বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে দুই বার রানার আপসহ ছয় বার সেরা দশের মধ্যে ছিলেন তিনি।
তবে এবার সেরা দশে থাকা নয়, চ্যাম্পিয়ন হতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ২৮ বছর বয়সী এই গলফার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না শিরোপা জয় সহজ হবে। তবে আমার মনোভাব ইতিবাচক। আমাকে শুধু গত তিন দিনের খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’ তৃতীয় রাউন্ড শেষে পারের চেয়ে মোট ১৩ শট কম খেলে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ভারতের এস.এস.পি. চৌরাশিয়া। ১২ শট কম খেলে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন ভারতের রশিদ খান ও ফিলিপাইনের অ্যাঞ্জেলো কে।
দিল্লি গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠানরত ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলে প্রাইজমানি হিসেবে সিদ্দিকুর পাবেন প্রায় দুই লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় দেড় কোটি টাকা)। এর আগে ২০১০ সালের অগাস্টে ব্রুনাই ওপেন জিতেছিলেন সিদ্দিকুর। সেটাই বাংলাদেশি কোনো গলফারের প্রথম এশিয়ান ট্যুর জয়ের কৃতিত্ব।
এদিকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপ গলফে খেলতে যাচ্ছেন সিদ্দিকুর। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আগামী ২১ থেকে ২৪ নভেম্বর এই প্রতিযোগিতা হবে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ইন্ডিয়ান ওপেনে খেলার পর ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর মেলবোর্ন মাস্টার্স গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন তিনি।