সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৫
সম্প্রতি দেশব্যাপী অব্যাহত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও লজ্জিত। যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা মানবতার শত্রু, বাংলাদেশের শত্রু। এখনই যদি আমরা ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের রুখতে না পারি তাহলে বাংলাদেশকে অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে হবে। দেশের বিশিষ্টজনরা এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যৌথভাবে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর এমেরিটাস আনিসুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, গত এক বছর ধরে বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে, তাতে আমরা লজ্জিত, উদ্বিগ্ন, ব্যথিত। যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা মানবতার শত্রু, বাংলাদেশের শত্রু। তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বিনষ্ট করতে চায়।
তিনি বলেন, এসব মৌলবাদীর সঙ্গে কোন আপস হতে পারে না, এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। মৌলবাদী এ দানবকে পরাভূত করতে না পারলে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ধারার মৃত্যু হবে।
কামাল লোহানী বলেন, দেশ আজ কোন দিকে যাচ্ছে তা আমাদের অনুধাবন করতে হবে। এখনই যদি আমরা ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের রুখতে না পারি তাহলে বাংলাদেশকে অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে হবে। কামাল লোহানী ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির সমালোচনা করে বলেন, এদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। যারা এদেশের পাহাড়ে-সমতলে বসবাস করেন, যারা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের এ অধিকার দিয়েছে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু মুসলমানরা সৃষ্টি করেনি। এদেশের আপামর জনতা সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তাই ধর্মান্ধদের হাতে এদেশকে আমরা ছেড়ে দিতে পারি না।
তিনি বলেন, যারা ভাবছে বিএনপি থেকে জামায়াত কিংবা জামায়াত থেকে হেফাজতকে আলাদা করা সম্ভব তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। তারা একের ভেতর অন্যটি ঢুকে গেছে। তারা শুধু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর উপর নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর হামলা চালাচ্ছে।
শাহরিয়ার কবির সাঁথিয়ার ঘটনার তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, একজন বিচারককে দিয়ে কমিশন গঠন করে এসব জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের নেপথ্যে যারা আছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।