সঙ্কট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্যের আহবান
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৬
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত নাগরিক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেছেন, দেশে শুধু নির্বাচন হওয়াই যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত সরকার যদি গণতন্ত্র সম্মত না হয় তবে সংকট আরো বাড়বে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জনমত এবং জনগণের স্বার্থের বিষয়গুলো তোয়াক্কা করছে না। হরতালের জ্বালাও-পোড়াও যেমনি জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে তেমনি বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেফতারে চূড়ান্ত শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সংকটে দিশেহারা হয়ে উঠেছে নাগরিক জীবন। গণতন্ত্রকে অকার্যকর করে দেশকে মৌলবাদী কিংবা আশ্রিত রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সংকট নিরসনে সকল শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের ঘরের বাইরে এসে চাপ তৈরি করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছতে বিশিষ্ট নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান তারা। শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত নাগরিক অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা এ আহ্বান জানান।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে চলতি মাসেই বৃহত্তর নাগরিক সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। একই লক্ষ্যে বিশিষ্ট নাগরিকদের একসাথে বসে করণীয় নির্ধারণ এবং ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার কিংবা এরপর যেকোনো সময় নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব সরকারের উদ্দেশে বলেন, দেশের বর্তমান সংকট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে সৃষ্টি হয়েছে। দেশের কল্যাণের জন্যই ষোড়শ সংশোধনী করুন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পথকে সহজ করতে সরকার ও বিরোধী দলকে আমরা অনুরোধ করেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু সরকার সমঝোতা ও নির্বাচনের দাবি পদদলিত করে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বড় দুই দলই জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। হরতালের জ্বালাও-পোড়াও যেমনি মেনে নেয়া যায় না, তেমনি বিরোধী দলের নেতাদের হয়রানিও নয়।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে দেশে বর্তমান অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অসাংবিধানিক পথ তৈরি করে দুর্বৃত্তরা ক্ষমতায় চলে আসতে পারে। তাই সমঝোতা করতে আর বিলম্বের সুযোগ নেই। নাহলে জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুই দল ও নেত্রীর হাতে দেশ নিরাপদ নয়। ক্ষমতার ভিতরে ও বাইরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একই। এ দুই দল যদি গণতান্ত্রিক হতো তবে দেশে কোনো সংকট থাকত না। এখন দেশে গণতন্ত্র খাবি খাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, ‘না’ বলার অধিকার জনগণের আছে। নির্বাচনে ‘না’ ভোট ফিরিয়ে দিন।
অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, রাজনীতিকদের খেয়াল-খুশির কারণেই নির্বাচন নিয়ে বার বার জনগণকে যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি পার করতে হচ্ছে এ থেকে মুক্তি চায় সকল নাগরিক। তাই সমঝোতায় দেরি না করতে রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের আ আ ম শফিকুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ও মালিক ফজলুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেহানা পারভীন।