ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস করে তাদের বিরুদ্ধে বলতে এসেছি

হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানির কবল থেকে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষার প্রত্যয়ে গতকাল শনিবার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ‘শান্তির অন্বেষায়’ শীর্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তির অন্বেষায় রংপুর কমিটির আহ্বায়ক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা সভাপতি রাজনীতিবিদ সাখাওয়াত রাঙ্গার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের খতিব আল্লামা ফরিদ উদদীন মাসউদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ ও খৃস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, একাত্তরের মামা বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক মামা, ইসলামী ফাউন্ডেশনের সাবেক মহাপরিচালক মুক্তিযোদ্ধা ডা. শাহাদত্ হোসেন, প্রজন্ম ৭১’র সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাইফী, মাওলানা রুহুল আমিন সিরাজী প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন শান্তির অন্ব্বেষায় রংপুর কমিটির সদস্য সচিব চিকিত্সক ও সমাজকর্মী মামুনুর রহমান মামুন। সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রজন্ম ৭১’র সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর। বক্তারা বলেন, আমরা কোন দলের পক্ষে ভোট চাইতে আসিনি। তবে ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ভাংচুর-লুটপাট করে, ইসলামকে অবমাননা করে তাদের বিরুদ্ধে বলতে এসেছি। হরতালের নামে সন্ত্রাস, সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ করছে। তারা বাংলাদেশকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান বানাতে চায়। তাদের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। তাই জামায়াতে ইসলামী কোনভাবেই প্রকৃত ইসলামের অনুসারী নয়। এরা ব্রিটিশের দালাল আব্দুল ওহাব নজদীর অনুসারী। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আল্লামা ফরিদ উদদীন মাসউদ ইসলাম ধর্ম, আল্লাহ রাসূল সম্পর্কে মওদুদী ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন অপব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের একজন যুদ্ধাপরাধী থাকবে ততোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। জামায়াতে ইসলামী কোন রাজনৈতিক দল নয়। একটি সন্ত্রাসী দল। তারা ৭১’ সালে ধর্মের নামে আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে। তারা হত্যা-খুন, লুণ্ঠনসহ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। তিনি বলেন, ইসলাম প্রচারে যিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন সেই মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরীর পবিত্র ভূমি রংপুর থেকেই শান্তির অন্বেষায় যাত্রা শুরু হলো। এই যাত্রা সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হবে। বিশেষ অতিথি এ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, একাত্তরে গোলাম আযম মানবতাবিরোধী যে অপরাধ করেছে এখনও জামায়াত সেই অপরাধ করে যাচ্ছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। ৭১’র মামা বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক মামা বলেন, গোলাম আযমকে ফাঁসিতে না ঝোলানো পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম থামবে না। প্রজন্ম ৭১’র সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর ঘোষণাপত্রে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা অসামপ্রদায়িক চেতনাস্নাত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তিই পারে অপশক্তি বা দানবীয় শক্তিকে পরাভূত করতে।