পথে -ঘাটে
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৭
- পোড়া ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে। এমনিতেই জ্বালার মধ্যে ছিল এখন আরো জ্বলে উঠলো।
- হরতালটারে জায়েজ করল। সরকার নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনল। হরতালের বিপক্ষে আর কিছু বলার থাকলো না।
যুদ্ধ করে আট নম্বর বাসে উঠতে হয়। দুপুরের পর থেকে রাস্তা ফাঁকা। হরতাল যেন একদিন আগে থেকেই শুরু। রাস্তায় অপেক্ষায় থাকা মানুষের ঢল। কিন্তু বাস নেই। মাঝে মাঝে দু’ একটা আসছে কিন্তু তাতে উপচেপড়া ভিড়। দুপুরের পরে কাওরানবাজার থেকে সায়দাবাদ যাওয়া এই বাসে তাই কষ্ট করেই উঠতে হয়। এমনই চলবে। এই নিয়তির কাছে বেশির ভাগ মানুষ যেন চুপ। তবু মাঝে মাঝে ঠোঁট নাচিয়ে তুলছেন কেউ কেউ।
- ওবামার নির্দেশে নেতাদের ধরেছে।
- শেখ হাসিনা নিজের ইচ্ছেয় কিছুই করেনি।
- ওয়ান ইলেভেন শুরু হইছে। সেই আলামত পাওয়া যাচ্ছে। সুস্থ মাথার আর কেউ আছে তা দেখা যাচ্ছে না। আমরা যা চাব ঠিক তার উল্টোটা হবে। এ থেকে আর নিস্তার নেই।
- ওয়ান ইলেভেনের ফল তো উনারা জানেই। বেশি দিন আগের কথা তো না। তবু শিক্ষা হয় না। নিজেরাই নিজেদের পরিস্থিতি ঘোলা করছে।
- এত কিছু বোঝে আর এই টুকু বোঝে না?
হেলপার জোরে বলে উঠলো , ফার্মগেটে গ্লাস ভাঙ্গতাছে আর ‘সারজেন’ খাঁড়াই খাঁড়াই দ্যাখতাছে।
- মাথা গরম হয়ে থাকে তো অন্য কিছু দেখার সময় নাই। বুঝবে কি করে। সরকারেরও মাথা গরম হয়ে আছে। পুরো পরিস্থিতি উল্টে গেল। আলোচনা সংলাপ কোন কিছুই যে হবে না তা বোঝা গেল। অনেক তাড়াতাড়ি এই নাটক শেষ হলো।
- আটক করলেই বিপদ বাড়ে। এই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে না।
- রাজনৈতিক সরকার আবার রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করে নাকি?
- এই কালচারটা তো ওয়ান ইলেভেনে শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সেটা কন্টিনিউ করছে। এটা একটা পচা কাজ। আবার বিএনপি এসেও একই কাজ করবে। আগে তো কখনো রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করা যায় ভাবনাই ছিল না। এখন একেবারে বড় বড় নেতাদের মুড়িমুড়কির মতো এরেস্ট করতিছি। এটা হলো নাকি?
-যে কাউকে যখন তখন গ্রেফতার করার কালচারটা অনেকদিন চলবে।
- ওবামা তো ইন্ডিয়াকে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা করতে বলেছেই। সেই আলোচনার ফল কি এটা নাকি?
- এত কিছু বুঝি না। শান্তি চাই। ওরা ওরা যা পারে তাই করুক। আমাদের মারে কেন? নিজেরা নিজেরা যত ইচ্ছে সংলাপ করুক কিম্বা না করুক। মুখ দেখুক আর না দেখুক। নিজেরা নিজেরা কর। আর দলের চেলা চামুন্ডাদের নিয়ে কর।
- মওদুদ এমকে আনোয়াররে কেন গ্রেফতার করল বুঝলাম না। কালও তো পরিস্থিতি ভাল ছিল। খালেদা জিয়ার মহাসচিব পর্যায়ের আলোচনার প্রস্তাব শুনে তো ভেবেছিলাম ঠিক পথেই আগাচ্ছে। একটা আলো দেখা দিয়েছিল।
- সব কিছু ভেঙ্গেচুরে চুরমার করে দিয়েছে।
- আওয়ামী লীগের পক্ষে মত যাচ্ছিল সেটা ওরা নিজেরা বিএনপির পক্ষে দিয়ে দিল।
- ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করল। একেবারে সেই দিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। মানুষের মধ্যে সরকারই হঠাত্ করে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল।
- আরে যদি এদের এরেস্ট না করতো তাহলে হরতালে অধৈর্য হয়ে সবাই বিএনপিকে গালাগালি করত। এখন তো আর কেউ বিএনপিকে গালাগালি করবে না। শুধু সাধারণ মানুষ মাইনকার চিপায় পড়ে থাকবে।