এগিয়ে যাচ্ছে প্রমিলা ক্রীড়া

বাংলাদেশের মহিলা ক্রীড়াজগতে যত নাম আমরা খুঁজে পাই তার মধ্যে সাবরিনা আহমেদ হোসেনের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে বহুদিন। সেই ১৯৭৮ সালে স্কুলপর্যায়ে টেবিল টেনিস থেকে শুরু। আর ২০০৮ সাল থেকে আজঅবধি তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মহিলা উইং-এর সদস্য। মূলত তিনি ছিলেন একজন জুডো খেলোয়াড়, সত্তরের দশকের শেষদিকে শুরু করেন জুডো খেলা। ১৯৮৩-৮৪ সালে জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৪ সালেই জাপান কাপে শিরোপা অর্জন করেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মায়ানমারে প্রীতি টুর্নামেন্ট খেলতে যান সাবরিনা। ১৯৮৫ সালে নিজের ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকার পরেও তিনি জুডো খেলা ছেড়ে দেন। তখন থেকেই তিনি বাংলাদেশের মহিলা ক্রীড়াঙ্গনের নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা ও সংগঠকের দায়িত্বে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৯৪ সালে জুডো ফেডারেশনের তিনজন নির্বাচকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। এভাবে নানা ধরনের অনির্বাচিত কমিটির সদস্য থেকে তিনি নিরলসভাবে ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করেছেন। অবশেষে তার কাছে সুযোগ আসে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কমিটির সদস্য হন সাবরিনা আহমেদ হোসেন। এ সম্পর্কে সাবরিনা আহমেদের সাথে কথা বলা হয়। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর আকতার কিরণের তত্ত্বাবধানে ও প্রত্যক সদস্যের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা নতুন রূপ পায়। সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ধূলো পড়া, অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকা সুলতানা কামালের ছবিকে যেভাবে নতুন করে সাজান ঠিক তেমনি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেন মহিলা ক্রীড়াঙ্গনকে। ২৩টি আলাদা ডিসিপ্লিনে আলাদা কমিটি গঠন করে আলাদা খেলার ব্যবস্থা, তৃণমূল দল গঠন ও তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য কাজ করে যান তারা। প্রায় প্রতিটি খেলার জন্য আলাদা পৃষ্ঠপোষক জোগাড়ও হয়েছিল, যা কিনা মহিলা ক্রীড়ার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য। তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতো গণতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। অর্থনৈতিক দিকে স্বচ্ছতা রাখার জন্য প্রতিটি খাতের আলাদা আলাদা বিল, কাগজে-কলমে ও হাতে হাতে বুঝে নেয়ার ব্যবস্থা চালু ছিলো। কিন্তু সবকিছু তাদের আয়ত্তে ছিল না, প্রায়ই ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মাঠে মেলা, কনসার্ট, নানা ধরনের অনুষ্ঠান বাণিজ্যিক লাভের জন্য আয়োজন করে থাকে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা। মহিলাদের খেলার একমাত্র জায়গাকে তুচ্ছ করে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ও কিছু টাকার জন্য খেলার জায়গা দিনের পর দিন নষ্ট করে তারা। এই বিষয় নিয়ে কমিটি সোচ্চার হয়, তারা প্রতিবাদ জানায়। এখন তিনি বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট ও ফুটবলের সাথে যুক্ত আছেন। ফুটবলে কাজী সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রথম মহিলাদের জন্য ফিফা ও এএফসির সি লাইসেন্স কোচিং করানো হয়। আর ক্রিকেটে সাবরিনার তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালের মার্চে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল ভারত সফর করে আসে বরদা ও আহমেদাবাদে ভারতের মহিলা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে। এখন যদিও এগিয়ে যাওয়ার পালা, তবুও থেকে যায় দীর্ঘশ্বাস, অনেক কিছুই হয়েও হলো না, যা শুধু সাবরিনা আহমেদের জন্য না, সমগ্র মহিলা ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই দুঃখজনক।