এ গি য়ে যা ও য়া না রী

এদেশের ভার্স্কয শিল্পী আইভি জামান

আইভী জামান এখন এদেশের বিখ্যাত একজন ভাস্কর্য শিল্পী। তার ছবি দেশ-বিদেশে বিখ্যাত। এদেশের ১২টি বিখ্যাত ভাস্কর্য শিল্প তার করা। পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার বাড়িতে বেগম রোকেয়ার যে মূর্তিটি সেটি আইভি জামানের করা। এছাড়া জাদুঘর, চারুকলা, এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি নানা জায়গায় আইভী জামানের বিখ্যাত ভাস্কর্য শিল্প রয়েছে। তার সময়ে এই বিষয়ে পড়ালেখা করতে অনেক করকাঠ পোঁড়াতে হতো। পারিবারিক, সামাজিক প্রকিবন্ধকতা মেয়েদের পায়ে বেড়ি পরালেও তার ইচ্ছাশক্তি এবং তার বাবার সহযোগিতা তার চারুকলাতে পড়ালেখা হয়। নিজের কর্মজবিন সম্পকে বলতে আইভি চলে যান চেলেবেলায়। আইভী জামান ৭ জানুয়ারি ১৯৫৮ সালে বগুড়া শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা ডা. এমদাদুল হক তরফদার, মা রওশনারা তরফদার। ৫ বোনের মধ্যে ৩য় আইভীর ছেলেবেলা কাটে বগুড়ায়। সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে চারুকলা থেকে ৫ বছরের স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তারপর চলে যান ভারতের শান্তি নিকেতনে। চারুকলার প্রথম বর্ষেই ভাস্কর্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়। আর বিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বামী এবং তার শিক্ষক ভাস্কর হামিদুজ্জামান সহযোগিতা ছিল। যদি তখন হামিদুজ্জামানের সাথে তখন বিয়ে হয় নাই। চারুকলা ২য় বর্ষে পড়ার সময় ১৯৭৬ সালে ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আজ অবধি স্বামী সহযোগিতা এগিয়েগেছেন তিনি। তিনি বলেন ভাস্কর্য শিল্পে পড়ালেখা করেও অনেক মেয়েরা এটাকে পেশা হিসেবে নিচ্ছেন না। প্রথমত আমাদের দেশে এই বিষয়ে চাকরি কম। যদি এমন হতো সরকারিভাবে প্রতিটি বিল্ডিং-এর সামনে ভাস্কর্য থাকতে হবে। তাহলে এই বিষয় মেয়ের শুধু নয় ছেলেদের আগ্রহ বাড়তো। যেমন বিদেশে ভাস্কর্যের ব্যবহার খুব বেশি। এদেশে পেনটিং ভিত্তিক কিছুটা পেশা আছে। তাই কিছু নারী শিল্প বিষয় নিজের ভালবাসা ধরে রাখতে পারছেন। এক্ষেত্রে মেয়েদের পারিবারিক বাধা রয়েছে। এখনও এই বিষয়ে মেয়েরা পড়ালেখায় কম আসছে কারণ মেয়েরা ক্যারিয়ার কথা চিন্তা করে, পারিবারও চিন্তা করে। বাবা-মা চান তার মেয়েটি পড়ালেখার পর ভাল চাকরি করবে।আর এ যুগের ফ্যাশন মেয়েরা কাঁদামাটি নিয়ে কাজ করবে এটাও পছন্দ করে না। তাই এই বিষয়ে খুব একটা পড়তে আসে না তারা। বর্তমানে আইভি উদয়ন স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে আছেন এবং পাশাপাশি ভাস্কর্য শিল্প র্চচা করেন। ব্যক্তি জীবনে স্বামী ভাস্কর হামিদুজ্জামান, দুই ছেলে একমাত্র ছেলের বউ ও নাতনি অধর কে নিয়ে ভাল আছেন। আগামী প্রজন্মে মেয়েদের উদ্দেশ্যে আইভি জামান বলেন আমাদের সময় যেসব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আমরা মেয়েরা কাজ করেছি তাদের দেখে আগামী প্রজন্মকে শিখতে হবে। জানতে হবে। এক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছাশক্তি প্রথম থাকতে হবে। মেয়েরা ভাস্কর্য শিল্পে এগিয়ে আমার খুব ভাল লাগবে। প্রতিটি বিল্ডিং এর পাশে রাস্তার আইল্যান্ডে ভাস্কর্য থাকা একটা আইন করতে হবে। একটি ক্লান্ত পথিক রাস্তার পাশে একটি ভাস্কর্য দেখে একটু থেমে যায় মুচকি হাসে এবং আনন্দ পায়।