সংরক্ষিত এলাকায় ইটভাটা করলে কারাদণ্ড ৫ বছর

সংরক্ষিত এলাকায় ইট ভাটা স্থাপন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) বিল-২০১৩’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে ইট ভাটায় জ্বালানি হিসাবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে বিলটি উত্থাপন করে পাসের প্রস্তাব করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলের উপর সংশোধনীসহ জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে তা উত্থাপিত হয়নি। পরে বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলে বলা হয়েছে, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষি প্রধান এলাকা এবং প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে না। কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা থেকে ইট তৈরির জন্য মাটি কাটলে অথবা অনুমোদন ছাড়া নদ-নদী বা হাওর, চরাঞ্চল থেকে মাটি কাটলে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর অনুমোদন না নিয়ে ইট ভাটা খুললে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অপরদিকে বিদ্যমান আইনে পার্বত্য এলাকা অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও নতুন আইনে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সনাতন পদ্ধতির ইট ভাটার মাধ্যমে অতিমাত্রায় পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান আইনে এসব বিষয় মোকাবেলার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। তাই পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করে ইট প্রস্তুত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনটিকে আরো গতিশীল ও প্রায়োগিক করতে এই বিল আনা হয়েছে।