পথে-ঘাটে

‘পরীক্ষাগুলার বারোটা বাজতেছে।’ বিরক্তি মুখে নিয়ে গুলশান দুই নম্বরে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রলোক বলছিলেন পাশের জনকে। -একেবারে ছোট ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষাতো। এ জন্য সমস্যা। - আরে ভাই এখন তো সবার পরীক্ষা। সারা জীবন নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস মানেই পরীক্ষা। ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত পরীক্ষা শুরু হবে কিছু দিন পরেই। স্বস্তি নিয়ে পড়াশোনাও করতে পারছে না ছেলে-মেয়েরা। বাইরের অশান্তির জন্য পড়তে বসেই দুশ্চিন্তায় থাকে ওরা। - এই সব কোমল ছোট ছেলে-মেয়েদের কথা কি কেউ ভাবে? পরীক্ষার পর লম্বা ছুটি। সে ছুটি নিয়ে এখনই মাথা ব্যথা ছেলে-মেয়েদের। - সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবে না। অল্প অল্প শীত শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের সামনে ভ্যানে করে শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ভ্যানের সামনেই কয়েকজন করে পছন্দের পোশাক কেনার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ মেতে আছেন খোশ গল্পে। - নতুন এক কালচার শুরু হইছে—হরতালের আগের দিন গাড়ি পোড়ানো। হরতালের দিন যত না ভয় তার চেয়ে আগের দিন ভয় বেশি। - মানুষরে আগে থেকে ভয় দেখাতে চায়। যেন হরতালে কেউ বের না হয়। - জনগণের আর কত জান-মাল দিতে হবে। - তারাই ক্ষমতায় আসবে। একজন বাদ যাবে, একজন আসবে। এই দুজনের বাইরে তো আর কেউ নেই। তবু তারা মানুষের জান-মাল—দুটোই নেবে। - দেশকে যদি ভালইবাসেন তবে অন্য কাজ করেন। অন্য কোন কর্মসূচি দেন। হরতাল কেন? - সাধারণ মানুষের চাল ডাল তেলে আঘাত করে যে কি মজা পাচ্ছে তারা বুঝি না। - প্রতিবাদের ভাষা অন্য কিছু করুক। - স্কুল-কলেজ আনসার্টেন পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে। - এখন বাড়ির বাইরে গেলে জান নিয়ে ফিরতে পারবে তার নিশ্চয়তা নেই। - এখন আবেদন করতে হবে, দয়া করে সাধারণ মানুষরে কষ্ট দিয়েন না। - আরে ভাই, গরিব মানুষের ছেলে-মেয়েরাই এই দেশে পড়াশোনা করে। বড় লোকের ছেলে-মেয়েরা তো পড়ে বিদেশে। তারা পড়াশোনা নষ্ট হওয়ার যে পরিস্থিতি তা বোঝে না। যাদের ঘরে পরীক্ষার্থী আছে তারা বোঝে জ্বালাটা কোথায়। - যারা এই শহরে থাকে তারা পেটের ধান্দায় থাকে। কেউ কি শখ করে থাকে নাকি? - জনগণের স্বার্থের কথা বলবেন আর তাদের ক্ষতি করবেন—তা হবে না। সাধারণ মানুষের কেউ চেয়ার দখল করতে যাবে না। তাদের কষ্ট দেয়া যাবে না।