দুই দলের সমঝোতা চান তরুণরা

দেশের চলমান রাজনীতিতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় না। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট সে কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে রাজনীতিকদের মানসিকতায় ও রাজনীতি চর্চায় আমূল পরিবর্তন দরকার। তাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে মূল্য দিতে হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে এবং সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষার যেমন প্রতিফলন ঘটবে না তেমনি চূড়ান্ত সংঘাতের প্রধান ভুক্তভোগী হবে জনগণই। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে বড় দুই দলের মধ্যে সমঝোতার বিকল্প নেই। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে এমন অভিমতই ব্যক্ত করেছেন ছাত্রনেতাসহ দেশের বিভিন্ন পেশায় জড়িত তরুণরা। তরুণ উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ব্যবসার সার্বিক গতিকে শ্লথ করে দেয়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। রাজনীতিকরা আমাদের জন্য সুখকর বার্তাতো বয়ে আনেনই না, বরং পাঁচ বছর পরপর তারা দেশবাসীকে চরম সংকটে ফেলেন। তিনি বলেন, দেশের বড় দুইটি দলের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মান বোধ তৈরি না হওয়াই সংঘাতের বড় কারণ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতি-নিধিদের একত্রিত হয়ে দুই দলের ওপরই চাপ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এস এম শুভ বলেন, সংকটের মূল কারণ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে লুটপাট দুর্নীতির পথ সুগম করার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে এখন বড় কোনো পার্থক্য নেই। একদল চাচ্ছে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে আমলে না নিয়ে নিজেদের অধীনে নির্বাচন করতে। অপর দল চাচ্ছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ঠেকিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় যেতে। এ অবস্থায় সমঝোতা খুবই প্রয়োজন। যদিও দুই দলই ইতিমধ্যে সেই পরিবেশ নষ্ট করেছে। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, সংকটের মূল কারণ মৌলবাদী রাজনীতির উত্থান, একে প্রশ্রয় দেয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া। আর তাদের সহায়তা করছে বিএনপি। তারা প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। তাই এ সংকট। ক্ষমতা নিয়ে সংঘাত এর আগেও দেশে হয়েছে। আওয়ামী লীগও এর আগে মৌলবাদী রাজনীতির সাথে আপোষ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালিত হলে এ সংকট থাকত না। ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন বলেন, সরকারি দল যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং বিরোধী দল যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চাওয়ার কারণেই এ সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুই দল ও নেত্রীর মধ্যে পরস্পর অনাস্থা থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি। তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বিচারপতি আরো দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু সরকার সেটি অনুসরণ না করে সংকট বাড়িয়েছে। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রভাষক জাহেদুর রহমান আরমান বলেন, দেশের বিদ্যমান সংকট কাটানোর বড় দায়িত্ব সরকারের। বিরোধীদলেরও দায় রয়েছে। তাই সমঝোতা না হলে দেশ গভীর সংকটে পড়বে। এজন্য দুই দলকেই এগিয়ে আসতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সরকারকেই আগে কদম ফেলতে হবে। আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আবু সাঈদ বলেন, নিজেদের ক্ষমতার লোভের কারণে জনগণের রায়ের উপর আস্থা রাখতে পারছে না সরকার ও বিরোধী দল। এর বড় কারণ দলগুলোর নিজেদের ভিতরে ও বাইরে আস্থা ও গণতান্ত্রিক আচরণের সংকট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি তৌফিকুল আলম বলেন, খুব ভয় নিয়েই এখন প্রতিদিন পার করতে হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে যে সংকট, তার স্থায়ী সমাধান দরকার। এজন্য দুই নেত্রীকেই উদ্যোগী হতে হবে। তাদের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করতে নাগরিক প্রতিনিধিরাও উদ্যোগ নিতে পারেন।