অবমুক্তকরণ জটিলতা থেকে রেহাই চান ভূমি মালিকরা

ঢাকা মহানগরীর কিছু অংশের জমি অবমুক্ত করার পরও ভূমি মালিকরা নামজারি করে খাজনা দিতে পারছেন না। ১৯৫৬ ও ১৯৬১ সালে দুটি ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ কেস) মামলাকে কেন্দ করে তারা এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভূমি রেকর্ড, দখল, দলিল-পর্চা সব কিছুই থাকার পরও তারা জমির নামজারি করে খাজনা দিতে পারছেন না। ফলে প্রয়োজন হলেও জমি বিক্রি করতে পারছেন না ভূমি মালিকরা। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার প্রয়োজনে যেকোনো জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু অবমুক্ত করে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত নেয়ার পর তা আর সরকারের মালিকানায় থাকে না। তাছাড়া ভূমি জরিপে জমি আগের মালিকদের নামে রেকর্ড হওয়ার পর আইনগতভাবেও সরকারের মালিকানা লুপ্ত হয়। এদিকে কোন আইনে সেসব জমির নামজারি ও খাজনা নেয়া বন্ধ করেছে তা স্পষ্ট করেনি ঢাকা জেলা প্রশাসন। ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নীতিগতভাবে তারা ভূমি মালিকদের পক্ষে আছে। তাই অতীতে এসব জমির নামজারি ও খাজনা বহাল ছিল। কিন্তু মাঝে মধ্যে কোনো কোনো কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এবারও তা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন কর্মকর্তারা বলছেন, চিঠি চালাচালি হলেও নামজারি ও খাজনা বন্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে অচিরেই এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবে। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক উপশহর গড়ে তোলার জন্য সরকার ১৯৬১ সালে ১৩৮ এলএ কেসের মাধ্যমে বাড্ডা, জোয়ার সাহারা, ভাটারা, লালসরাই, মহাখালী, সামাইর, ভোলা ও সূতিভোলার আটটি মৌজার দুই হাজার ৭৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ১৯৫৬ সালে সেনানিবাস প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয় বাড্ডা মৌজার ২০৯ একর জমি। পরে নিকুঞ্জ, বারিধারা, দক্ষিণ বারিধারা (বাড্ডা রাজউক জোন), বারিধারা ‘জে’ ব্লকসহ অন্যান্য কাজে কিছু জমি রেখে অধিকাংশ জমি অবমুক্ত করে দেয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মালিকরা বিভিন্ন সময়ে অধিগ্রহণের টাকা ফেরত দিয়ে নামজারির মাধ্যমে খাজনা দিয়ে নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। এ অবস্থায় হঠাত্ করে ঢাকা জেলা প্রশাসন চিঠি দিয়ে নামজারি এবং খাজনা নেয়া বন্ধ করে দেয়। এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন সময়ে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অধিগ্রহণকৃত জমি অবমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ভূমি অবমুক্ত করার কোনো প্রক্রিয়া বিদ্যমান নেই। এ কারণে ক্যান্টনমেন্ট এবং তেজগাঁও রাজস্ব সার্কেল এসব জমির নাজমারি এবং খাজনা নেওয়া বন্ধ রেখেছে।’ ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘ ৫৬ বছরেও ঢাকা জেলা প্রশাসন কেন অবমুক্ত জমির গেজেট প্রকাশ করেনি, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ভূমি অধিগ্রহণের গেজেট প্রকাশ করার আইনগত দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। বাড্ডা, জোয়ার সাহারা ও ভাটারা এলাকার ভূমি মালিকরা জানান, জমি অধিগ্রহণ হলেও সেসব জমির সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের কোথাও সরকারের স্বার্থ নেই। এ কারণে মালিকানার ধারাবাহিকতার স্বার্থে ভূমি মালিকরা নিরবচ্ছিন্নভাবে নামজারি করে খাজনা দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া ভূমি মালিকরা নিজ জমিতে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। গত ৫২ বছরে এসব জমি অনেকবার বিক্রি হয়েছে এবং মালিকের মৃত্যুজনিত কারণে মালিকানার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কখনো সরকারের কোনো সংস্থা বা রাজউক সেসব জমি নিজেদের বলে দাবি করেনি বরং ভূমি মালিকদের পক্ষে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অধিগ্রহণকৃত জমি অবমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।