প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের ৬৭৮টি আবেদনপত্র বিক্রি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়নের আবেদনপত্র বিক্রির প্রথম দিন গতকাল রবিবার ৬৭৮টি আবেদনপত্র বিক্রি হয়েছে। সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়নের আবেদনপত্র নেয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাত বিভাগের মোট ৬৭৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী আবেদনপত্র ক্রয় করেন। প্রতিটি আবেদনপত্রের মূল্য ২৫ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ফরম বিক্রি হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে মনোনয়নপত্র বিক্রি শেষে দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস সাংবাদিকদের জানান, প্রথম দিনে ঢাকা বিভাগ থেকে ২১৫ জন ফরম সংগ্রহ করেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের ৭৫টি, রংপুর বিভাগের ৮০টি, খুলনা বিভাগের ৯৫টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০৩টি, বরিশাল বিভাগের ৫৮টি এবং সিলেট বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য ৫২টি আবেদনপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭টি বিভাগের জন্য ৭টি বুথ খোলা রাখা হয়। এ কাজে সহায়তা করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে প্রধান করে গঠিত ২৩ সদস্যের উপ-কমিটি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদনপত্র বিক্রি চলবে। তবে প্রয়োজনে সময় আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সকাল সাড়ে ১০টায় দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে (টুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়া) দলীয় আবেদনপত্র ক্রয় করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এটি সংসদীয় আসন-২১৭। পরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১ আসনে তার নিজের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেন। এছাড়া প্রথম দিনে চাঁদপুর-৩ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি তার আবেদনপত্র ক্রয় করেন এবং দুপুরের দিকে তিনি তা জমা দেন। এরপর একে একে আবেদনপত্র ক্রয় করেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ক্রীড়া মন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, সাবের হোসেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ। অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে কামাল আহমেদ মজুমদার, পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মহিউদ্দিন মহারাজ, যশোর-২ আসনে প্রফেসর রফিকুল ইসলামের পুত্র ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোস্তফা আশীষ ইসলাম, ময়মনসিংহ-৫ আসনে তাহমিনা জাকারিয়া শাহাবুদ্দিন, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী মিসেস ইসমাত আরা সাদেক ও আমির হোসেন, পটুয়াখালী-১ আসনে হারুনুর রশীদ হাওলাদার, ভোলা-৪ আসনে মো. মফিজুল ইসলাম, দিনাজপুর-৬ আসনে মিজানুর রহমান মণ্ডল, একই আসন থেকে শিবলী সাদিক, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মুশফিকুর রহমান মোহন, নাটোর-৪ আসনে আকতার সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে রফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা-৩ আসনে জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রমুখ। আবেদনপত্র সংগ্রহ নিয়ে গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দিনভর সেখানে ছিল হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড়। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনা ও নৌকা প্রতীকের স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা। কেউ কেউ আবার ট্রাক শোভাযাত্রা, মোটর শোভাযাত্রাসহ রং-বেরংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন নিয়েও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আসেন। আবেদনপত্র প্রত্যাশীদের কর্মীদের ভিড় সামাল দিতে হিমসিম খেতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের। ব্যাপক জনসমাগম ও স্বাভাবিক যানবাহন চলাচলের কারণে বঙ্গবন্ধু এলাকায় বিরোধী দলের হরতালের কোন আমেজই ছিল না। তবে কিছু সময়ের জন্য ঢাকার কয়েকটি আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মীদের মাঝে কিছুটা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৪ (কদমতলী-শ্যামপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওলাদ হোসেন ও শফিকুল ইসলাম সাইজুলের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেলা ২টার দিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অস্থায়ী প্যান্ডেলে অবস্থান নেয় আওলাদ ও সাইজুল গ্রুপ। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে শুরু হয় সংঘর্ষ, চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি। সংঘর্ষ প্রায় আধা ঘণ্টা চলতে থাকে। আওলাদের গ্রুপ সাইজুল পক্ষের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকেন। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। পরে পুলিশ মৃদু লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।