দুবলার চরে দু’দিন পরই রাশ মেলা শুরু
এইচ এম দুলাল, মংলা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০০
সুন্দরবনের দুবলার চরে আর মাত্র দুইদিন পর থেকেই শুরু হচ্ছে রাশ মেলা। চলতি মাসের ১৫ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত তিনদিন পূর্ণিমার গোনে উদযাপন হবে বহু আকাঙ্ক্ষিত এই মেলা। মেলা আয়োজনে ও মেলাস্থলে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। হরিণ শিকারসহ বন্যপ্রাণী নিধন রোধে নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই মেলার আয়োজন প্রতিবছর করা হয় বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোর কোলে। সেখানে পুণ্যস্নানে আসা হিন্দুধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, পূর্ণিমা তিথিতে স্নান করলে মনের কামনা-বাসনা পূরণ হবে। মেলায় দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে থাকে। তবে মূলত সুন্দরবনের আশপাশ এলাকার জনসাধারণের সবচেয়ে বড় মিলনস্থল দুবলার এই রাসমেলা। মেলায় আগমনেচ্ছুদের নিরাপত্তা দিতে বন বিভাগ ইতিমধ্যেই প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো. আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, মেলায় যাওয়ার জন্য সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ৮টি রুট করা হয়েছে। আগ্রহী দর্শনার্থীরা তিন দিনের প্যাকেজে মাথাপিছু বন বিভাগকে ৫০ টাকা রাজস্ব প্রদান সাপেক্ষে তাদের (দর্শনার্থীদের) নিজেদের ব্যবস্থাপনায় মেলাস্থলে যেতে পারবেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক কোস্টগার্ড, পুলিশ, নেভি ও র্যাবের টহল ব্যবস্থা থাকছে। হরিণ শিকার রোধ ও মেলায় আগন্তুকদের নিরাপত্তায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে ১৬টি টিম গঠন করা হয়েছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের কাউকেই রাতের বেলা বনের ভেতর চলাচল করতে দেয়া হবে না।
মেলা উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মেলায় আগমনেচ্ছুদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। ফলে এ বছর মেলার কলেবর কমে গিয়ে বিগত বছরগুলোর তুলনায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পেতেও পারে।