গোপালপুরে হরতালে
পিকেটিং করে শিশুরা
জয়নাল আবেদীন, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৮
দেশে প্রচলিত শিশু অধিকার নীতিমালায় ১৮ বছরের নিচে শিশু-কিশোরকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় হরতালকেন্দ্রীক রাজনীতিতে শিশু-কিশোরদের অবাধে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। বিগত আড়াই দশকে এ উপজেলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ১১ নেতা-কর্মী। ক্ষতাসীনদের হস্তক্ষেপে এর কোনটির সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় প্রতিহিংসা বেড়েছে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনোত্তর হামলায় আওয়ামী লীগের ৩৫৮ জন, ১৯৯৬ সালে বিএনপির ৩১৩ জন, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের ৪৬৭ জন এবং ২০০৮ সালে বিএনপির ২৮৫ জন আহত হন। এজন্য বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পাঁচ বছরের জন্য এলাকা ছাড়েন। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কর্মীরা পুরো মেয়াদে গা ঢাকা দেয়। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে বিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যে রাজপথে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পিকেটিংয়ে দলীয় কর্মীদের সাথে শিশু-কিশোররাও লাঠি, রামদা, খোন্তা নিয়ে রাজপথে নামে। সড়কে টায়ার জালিয়ে বড়দের সাথে বিক্ষোভ করে। পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। হরতালের দিন অনেক শিশু স্কুলে যায় না। তাদের কাছে হরতাল মানে উত্সবের দিন। চলমান হরতালে পিকেটিং করার অভিযোগে হরতাল বিরোধীদের হাতে সূতি গ্রামের কিশোর রামদায়ের কোপে গুরুতর আহত হয়। গোপালপুরে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন বেসরকারি সংস্থার মহাসচিব খন্দকার রুহুল আমীন। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অনুচ্ছেদ- ৩৬ এ যেকোন শিশুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা ইসলাম জানান, যারা রাজপথে হরতাল করেন, আন্দোলন করেন তারা নিয়মনীতি মানতে নারাজ। ওসি জসিম উদ্দীন জানান, উভয় দলের সামাজিক প্রতিশ্রুতি ছাড়া এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ করা যাবে না। উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, রাজনীতি যখন জনবিচ্ছিন্ন হয় তখন শিশুদের নিয়ে এ ধরনের খেলা হয়।