ইসি সাত লাখ নির্বাচনী
কর্মকর্তা নিয়োগ দিচ্ছে
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২২
আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ৩শ সংসদীয় আসনে প্রায় ৭ লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য আজকালের মধ্যে জেলা প্রশাসক (সম্ভাব্য রিটার্নিং কর্মকর্তা) বরাবর পত্র পাঠানো হচ্ছে। আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এরপরেই তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণও আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তালিকা প্রস্তুতসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে রাখা হবে। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণার পর এ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হবে। নিয়োগের বেলায় এবং তালিকা প্রস্তুত করতে বিগত নির্বাচনে কাজ করেছেন এমন কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতাকে প্রাধান্য দেয়া হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ৩৮ হাজার ভোট কেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যদিও এই তালিকা আরো কমিয়ে আনার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এসব ভোট কেন্দ্রে নিয়োগ পাবেন জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। কমিশন থেকে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্র ৩৮ হাজার আর ভোটকক্ষ ধরা হয়েছে ২ লাখের মতো।
নিয়মানুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতিটি ভোটকক্ষে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও দু’জন পোলিং অফিসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। সচিবালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৩৮ হাজার ভোট কেন্দ্রে ৩৮ হাজার প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ পোলিং অফিসারসহ ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ধরে মোট ৭ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
সচিবের মাধ্যমে প্যানেল গঠনের অনুমতি চেয়ে কমিশন বরাবর নোট পাঠানো হয়েছে। সচিবালয়ের প্রস্তাবনায় আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে প্যানেল গঠনের তাগাদা দিয়ে জেলা প্রশাসকদের বরাবর পত্র দেয়ার কথা বলা আছে। প্যানেলের চিঠির অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হচ্ছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ১৯৭২ এর (আরপিও) ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসাররা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার কোন্ পর্যায়ের ব্যক্তিরা হবেন তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি অফিস, দফতর-অধিদফতর ও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিঠি পাঠাবেন। তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে নাম, ঠিকানা এবং পদবি স্পষ্টভাবে লিখে তালিকা পাঠাবেন।
ওই ধারার (ক)-তে উল্লেখ আছে, প্যানেল প্রস্তুত হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসার তার একটি কপি যে সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের প্রধানের কাছে উক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচন কাজে ব্যবহারের জন্য তাদের চাকরি কমিশনের নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করার অনুরোধ সহকারে প্রেরণ করবেন। প্যানেলের কপি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।
তালিকা অনুযায়ী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তবে কোন ব্যক্তি কোন প্রার্থীর অধীন চাকরিরত থাকলে বা কোন সময় থেকে থাকলে তাকে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা যাবে না।