সমঝোতার পথে মোহামেডান ও শেখ রাসেল
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০০
দুই ক্লাব থেকে টাকা নেয়া বিতর্কিত ফুটবলারদের দাবি পরিত্যাগ করছে মোহামেডান। সাদা-কালো জার্সিধারীরা যেসব খেলোয়াড়কে আগাম টাকা দিয়ে দল শক্তিশালী করতে চেয়েছিল, এখন আর তাদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কারণ আইনী লড়াইয়ে গেলে মোহামেডানের দাবি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স মিলবে কিনা তা নিয়ে শংকা আছে গত লিগের পঞ্চম স্থান পাওয়া ক্লাবটির। এ কারণে দাবিকৃত ফুটবলারদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে মোহামেডান। তাই মোহামেডান এখন আর শক্ত অবস্থানে নেই। ফলে মোহামেডান এবং শেখ রাসেল ক্লাবের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দুই ক্লাবই ইতোমধ্যে আলোচনায় বসেছিল বিষয়টি সুরাহা করার জন্য। ফুটবলের এবং খেলাটা মাঠে গড়ানোর স্বার্থে একমত হয়ে আলোচনা অনেক দূর গড়িয়েছেও। উভয় ক্লাবই ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। কিভাবে ছাড় দেয়া যায় তা নিয়ে ক্লাবগুলো নিজেদের মধ্যে বৈঠক করলেও দুই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খেলোয়াড়দের রক্ষা করা।
শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন দুই ক্লাব একটা ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন,‘আমরা চাই না আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার নষ্ট হোক’।
গত মৌসুমের ট্রেবল জয়ী শেখ রাসেলের জাহিদ, মামুন মিয়া, নাহিদুল ইসলাম মোহামেডান থেকে ১০ লাখ করে টাকা আগাম নিলেও তারা মত পাল্টে আগের ক্লাবে ফিরে যান। এই নিয়ে জটিলতার শুরু। মূলত এই একটি ইস্যুকে ঘিরেই নানা অজুহাতে পেশাদার ফুটবল লিগের দলবদলের সময় কয়েকবার বাড়ানো হয়। তারপরও সুরাহা হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলো প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির টেবিলে উঠলেও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল সেই সভা। আগামী শুক্রবার দলবদলের শেষ সময়। ঘনিয়ে আসছে দিনক্ষণ। বিতর্কিত ফুটবলারদের ইস্যুতে মোহামেডান শেখ রাসেল, কোনো দলই এখনও খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করায়নি। এখন একটা সুরাহা চায় দল দুটি । উভয় ক্লাবের শীর্ষ পর্যায়ে কথাবার্তা অনেকদূর এগিয়েছে। জানা গেছে উইংগার জাহিদ, দুই ডিফেন্ডার নাহিদুল এবং মামুন মিয়া, এই তিনজনের মধ্যে মোহামেডান চাইছে নাহিদুলকে। কিন্তু শেখ রাসেল তাকে দিতে নারাজ। শোনা যাচ্ছে শেখ রাসেল জাহিদকে ছেড়ে দিতে চায়। কিন্তু মোহামেডান নাকি জাহিদকে নিতে চায় না। শেখ রাসেলও নাহিদুলকে ছাড়তে চায় না। তবে সরাসরি কোনো খেলোয়াড়ের নামপ্রকাশ করছে না দুই ক্লাব। শেখ রাসেল সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী বলছেন, আমরা একে অপরের সাথে কথা বলছি। যেন আমাদের চাওয়া পাওয়াটা একই রকম না হয়।’
মোহামেডান জাহিদকে নিতে রাজি না, বলা হলে শেখ রাসেল সভাপতি কোন মন্তব্য না করে শুধু বলেন, কাকে ছেড়ে দেব আর কাকে রাখবো, আমরা আজ নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো। এর আগে কিছু বলতে পারব না।’ তিনি বলেন, আমার কথা হচ্ছে খেলোয়াড়রা যেন আইনে আটকা পড়ে সাসপেন্ড না হয়।’
শুধু জাহিদ, নাহিদুল এবং মামুন মিয়া নয়, শেখ জামালের শাকিল মোহামেডান থেকে আগাম ১০ লাখ টাকা নিয়ে শেখ রাসেলে যোগ দিয়েছেন। মোহামেডানের শরিফুল ইসলাম দলে থেকে যাওয়ার জন্য আগাম টাকা নিয়েও আবাহনীতে গিয়েছেন। শেখ রাসেলের মিঠুন চৌধুরী আবাহনীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা আগাম নিয়ে রাসেলেই ফিরে এসেছেন। এই সব খেলোয়াড়দের নিয়ে এবারের দলবদলে যত জটিলতা। এই সব বিতর্কিত ফুটবলারদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির সভা হবে। আশা করা হচ্ছে দুই পক্ষের চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। আর যদি না হয় পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেবে। আর হলে, মোহামেডান এবং শেখ রাসেল শুক্রবার খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করাবে।