ধোনিকে সমর্থন করেছিলেন টেন্ডুলকার

মুম্বাই ক্রিকেট এসোসিয়েশন (এমসিএ) প্রধান শারদ পাওয়ার জানিয়েছেন, মহেন্দ্র সিং ধোনিকে অধিনায়ক হিসেবে সমর্থন করেছিলেন শচিন টেন্ডুলকার। ২০০৭ সালে রাহুল দ্রাবিড় অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছে পোষণ করলে ধোনিকে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবে সমর্থন করেছিলেন লিটল মাস্টার। রবিবার নিজের ব্ল¬গে পাওয়ার লিখেছেন, ‘দলের খেলোয়াড়দের বিশেষ করে জুনিয়রদের সাহায্যে হাত বাড়াতে পছন্দ করতেন টেন্ডুলকার। টিম স্পিরিটেও বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তার মধ্যে ছিল নম্রতা। নিজের খেলা প্রতি মনোনিবেশ করতেই তিনি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন একটি ছোট্ট কাহিনী টেন্ডুলকার ও ধোনির অগণিত ভক্তকে আনন্দিত করবে। কয়েক বছর আগে ভারতীয় ক্রিকেট দল ইংল্যান্ডে খেলার সময় এটা ঘটেছিল। বিসিসিআই প্রধান হিসাবে আমিও লন্ডনে ছিলাম।’ কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী সে দিনের ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘একদিন রাহুল দ্রাবিড় আমার কাছে একটা অনুরোধ নিয়ে এল যাতে আমি বিস্মিত হলাম। দ্রাবিড় আমাকে বলল-তার খেলায় বিঘ্ন ঘটায় সে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতে চায়। আমি একবাক্যে বললাম না। টি-২০ সিরিজ ছিল খুব সন্নিকটে এবং বিশ্বকাপের বাকি ছিল এক বছরের মত।’ সম্ভাব্য বদলি হিসাবে টেন্ডুলকারের নাম প্রস্তাব করলেন দ্রাবিড়। কিন্তু সিনিয়র এ ব্যাটসম্যান উত্সাহী ছিলেন না। নিজের স্মৃতি রোমন্থন করে পাওয়ার বলে, ‘এমন সংকট কালে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার কথা দ্রাবিড় কিভাবে চিন্তা করল? তার স্থলাভিষিক্ত কে হবে? দ্রাবিড় নিজের ইচ্ছায় অনড় থাকল। পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে সে শচিনের নাম প্রস্তাব দিল। এ বিষয়ে আমি শচিনের সঙ্গে কথা বললাম। দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হতে সে রাজি হলো না। পরিবর্তে সে ধোনির নাম প্রস্তাব করল। এই শুরু হলো ধোনিকে নিয়ে আলোচনা। ‘ধোনি অসাধারণ একজন উইকেট রক্ষক। কিন্তু আমি শচিনকে জিজ্ঞাসা করলাম সে কি একজন ভাল অধিনায়ক হবে? উত্তরে শচিন বলল, ‘আপনি তাকে নিয়ে চেষ্টা করে দেখেন। সে একজন ভাল অধিনায়ক হবে। আমি মনে করি এর সঙ্গে দায়িত্ববোধ জড়িত।’ ‘বিসিসিআই নির্বাচন কমিটি ধোনিকে অধিনানয়ক হিসাবে বেছে নিল এবং ভারতকে সে গর্বিত করেছে। আমরা টি-২০ বিশ্বকাপ জিতলাম এবং তারপর মুম্বাইয়ে ২০১১ বিশ্বকাপও। নতুন অধিনায়ক প্রশংসায় ভাসতে থাকলেন এবং যা সত্যিই তার প্রাপ্য। শচিনের দূরদর্শিতার কারণেই এটা ঘটেছিল।’পাওয়ার বলেন, ‘শচিন অবসরে যাচ্ছে। ক্রিকেট থেকে সে নিজকে খুব বেশি দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না। আমি নিশ্চিত তার অবসর পরিকল্পনায় অবশ্যই তরুণ খেলোয়াড়দের জাগিয়ে তোলার চেষ্টা আছে। মাস্টার ব্লাস্টারের জন্য শুভ কামনা।’ বাসস