গার্মেন্টস মালিকরা ৫৩০০ টাকা নূন্যতম মজুরি মানবেন, তবে-
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩৪
পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের দেয়া পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব মালিকপক্ষ শুরুতে প্রত্যাখ্যান করলেও সেই অবস্থান থেকে সরে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০১০ সালের মতো কিছু শর্ত (নীতি সহায়তা) মেনে নিলে শেষ পর্যন্ত এই অংক মেনে নেয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন মালিক পক্ষের একাধিক নেতা।
এদিকে গতকাল শ্রম মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বৈঠক করেছে মালিক পক্ষ। বৈঠক শেষে শ্রম মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ২১ নভেম্বর মজুরি বোর্ডের পরবর্তী বৈঠকে এ খাতের শ্রমিকদের জন্য চূড়ান্ত মজুরি ঘোষণা করা হবে। সেই পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মজুরি বোর্ডের প্রস্তাব মালিক পক্ষ প্রত্যাখ্যান করার পর গাজীপুর, আশুলিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই অসন্তোষের কারণে ২০ থেকে ২৫টি কারখানার কাজ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় মালিকপক্ষও মনে করছে, ইস্যুটি মীমাংসা হতে যত দেরি হবে ততই ক্ষতি।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী মনে করেন, ৫ হাজার ৩০০ টাকার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে হলে সরকারকে তাদের ‘বাড়তি খরচ’ পুষিয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে রপ্তানিতে উেস কর বিদ্যমান দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা, ব্যাংকের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, রপ্তানিকারকদের জন্য ডলারের আলাদা বিনিময় হার স্থির করা, নতুন বাজারে রপ্তানি ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনাসহ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। গতকাল সোমবার ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ২০১০ সালে মজুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই খাতের উদ্যোক্তাদের কিছু প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল। ফলে পরের বছর রপ্তানি বেড়েছিল ৪২ শতাংশ। এবার সরকার যদি ৫ হাজার ৩০০ টাকা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা দিতে চায় সেক্ষেত্রে উল্লেখিত প্রণোদনার মাধ্যমে বাড়তি খরচ পুষিয়ে দিতে হবে। এছাড়া বিজিএমইএ’র একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মজুরি বাস্তবায়নের জন্য তারা নভেম্বরের পরিবর্তে আরো দুই/তিন মাস সময় চাইতে পারেন।
এদিকে গতকাল শ্রম মন্ত্রীর সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বৈঠক করেছে মালিক পক্ষ। বৈঠকে মালিক পক্ষ সরকারের কাছে রপ্তানির উেস কর কমানো, রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলারের জন্য বিশেষ বিনিময় হার নির্ধারণসহ কয়েকটি বিষয়ে নীতি সহায়তা চেয়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মালিকরা ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাইলে তাদের জন্য ‘এক্সিট পলিসি’ চেয়েছেন তারা।
গত ৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ড ভোটাভুটি প্রক্রিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি আরশাদ জামাল দিপু বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে বিজিএমইএ প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে ৫ হাজার ৩০০ টাকার প্রস্তাব প্রত্যাহার না করলে কারখানা বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দেয়। তারা তাদের আপত্তি মজুরি বোর্ডে জমা দেয়ার কথাও বলে; কিন্তু গতকাল পর্যন্ত মজুরি বোর্ডে তাদের আপত্তি জমা দেয়া হয়নি। বিজিএমইএ’র নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করার পর তারা এই আপত্তি জমা দেবেন।
মজুরি বোর্ডের বিধান অনুযায়ী খসড়া মজুরি নিয়ে কোন পক্ষের আপত্তি গ্রহণের জন্য ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়; কিন্তু সরকার মজুরি ঘোষণা দিলেও মালিক পক্ষের কারণে দেরি হচ্ছে এমন একটি ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে শ্রমিকদের অশান্ত করার চেষ্টা করছে শ্রমিক নেতাদের একটি পক্ষ। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই গাজীপুর ও আশুলিয়ায় শ্রম অসন্তোষের কারণে কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। গতকাল সোমবার এসব এলাকায় প্রায় ১০০ কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
মজুরি ইস্যুতে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এমনটি স্বীকার করেন মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি। এসব কারণে তিনি মনে করেন, ইস্যুটির দ্রুত সমাধান হোক। যে কোন কারণে আইন-আদালত পর্যন্ত গড়ালে মজুরি বাস্তবায়নের ইস্যুটি ঝুলে যেতে পারে বলে তার আশঙ্কা। গতকাল তিনি ইত্তেফাককে বলেন, অধিকাংশ শ্রমিক ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে আন্দোলন করছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মজুরি পর্যালোচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় থাকে। তবে আগামী ২১ তারিখে এটির সমাধান হবে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রস্তাবিত মজুরি পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা থেকে কমার কোন সম্ভাবনা নেই।