গোয়ালন্দে ছাত্র খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কলেজ ছাত্রকে খুন করার পর খুনি নিজেই ধারালো চাকু নিয়ে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যার দিকে। এছাড়া এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে একজনকে এলাকাবাসী ধরে থানায় দিয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ও উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের টুটুল সরদার সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরছিল। এসময় তারই ফুপাতো ভাই প্রতিবেশী নজির খা ধারালো চাকু দিয়ে প্রথমে পেটে, পরে জবাই করে নিজেই থানায় আত্মসমর্পণ করে। পরে পুলিশ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। খুনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসী নজিরের ভাতিজা রাসেল খাকে (২২) সন্দেহ করে আটক করে মারধর দিয়ে থানায় সোপর্দ করে। আত্মসমর্পণকারী নজির খা জানায়, প্রায় তিন বছর পর বাহরাইন থেকে দেশে ফিরে জানতে পারে মামাতো ভাই টুটুলের সাথে তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ নিয়ে টুটুল ও তার পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটিও হয়। সর্বশেষ রবিবার সকালে টুটুলকে বারণ করলে তাকে খুন করার হুমকি দেয়। তখন থেকেই সে টুটুলকে খুন করার উদ্দেশ্যে ওইদিনই চাকু কিনে সাথে নিয়ে ঘুরতে থাকে। সোমবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাড়ির কাছে টুটুলকে একা পেয়ে প্রথমে পেটে পরে সে জবাই করে নিজেই চাকুসহ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে টুটুলের বড় ভাই বাবু সরদার জানান, নজির খার পরিবার এলাকার মধ্যে প্রভাবশালী হওয়ায় তুচ্ছ বিষয় নিয়েই মাঝেমধ্যে আমাদেরকে ভয় দেখাতো। এমনকি রবিবার ছোটভাই টুটুলকে খুন করার কথাও জানায়। টুটুলের সাথে তার স্ত্রীর কোন সম্পর্ক ছিল না। ওসি আবুল বাসার বলেন, খুনি স্বেচ্ছায় থানায় এসে খুনের কথা স্বীকার করেছে এবং রাসেল খা নামের আরেক যুবককে আটক করে তারা থানায় দিয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।