মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগ
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৬
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠককালে তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে নিজ নিজ পদত্যাগপত্র তুলে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দলীয় মনোনয়নের আবেদনপত্র কিনে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী কাজে নেমে পড়ার জন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রতি নির্দেশ দেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে না। সর্বদলীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে। আর এই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার শুরুতেই মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সর্বদলীয় সরকারে যারা থাকবেন তাদের পতদ্যাগপত্র গ্রহণ করবেন না প্রধানমন্ত্রী। কাজেই তাদের আর নতুন করে শপথ নেয়ার প্রয়োজন হবে না। আর যারা সর্বদলীয় সরকারে থাকবেন না, তাদের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বর্তমান সরকার কাঠামোয় এটাই মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক। প্রস্তাবিত সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা আকারে ছোট হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তাদের শপথ নিতে হবে। এরপর নতুন করে মন্ত্রিদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপিকে সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের নির্বাচনকালীন এই সরকারে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার কোন সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দিলে সক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। কারণ জমা দেয়া পদত্যাগপত্রে তাদের কেউ কোন তারিখ উল্লেখ করেননি।
গত ১৮ অক্টোবর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন এবং বিরোধী দলকে এতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। এর দুই দিন পর বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১০ জন সাবেক উপদেষ্টাকে নিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পাল্টা প্রস্তাব দেন।
হিজড়াদের ‘লিঙ্গ পরিচয়কে’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে সরকারি নথিপত্র ও পাসপোর্টে তাদের লিঙ্গ পরিচয় ‘হিজড়া’ হিসাবে উল্লেখ করা হবে। শিক্ষা, চিকিত্সা ও আবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ঘোঁচাতেও কার্যকর হবে এই স্বীকৃতি। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত ‘নীতিমালা’ অনুমোদন করা হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার হিজড়া রয়েছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে শিক্ষা, চিকিত্সা ও আবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে তথ্য সংগ্র্রহের সময় ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় হিসাবে ‘নারী’ ও ‘পুরুষের’ পাশাপাশি ‘হিজড়া’ হিসাবে চিহ্নিত করার সুযোগ থাকবে।
এছাড়া মন্ত্রিসভা একটি খামার একটি বাড়ি প্রকল্পের সুবিধাভোগী সমিতিগুলোর হাতে ৪৯ শতাংশ মালিকানা রাখার বিধান করে ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন ২০১৩ এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা বলেন, একটি খামার একটি বাড়ি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঞ্চয় সেবা দিতে এবং ঋণ বিতরণের জন্য এ বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করছে সরকার। ব্যাংকের ৫১ শতাংশ মালিকানা হবে সরকারের, বাকি ৪৯ শতাংশ ওই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে গঠিত সমিতিগুলোর হাতে থাকবে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে এক হাজার কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন থাকবে ২০০ কোটি টাকা। গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গ্রামীণ ব্যাংক ব্যক্তি পর্যায়ে জামানত ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম চালায়। আর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক জামানতসহ ও বিনা জামানতে ঋণ দেবে সমিতি পর্যায়ে। সরকারের মালিকানার দিক দিয়েও দুই ব্যাংকের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য থাকছে।