ককটেল কারখানার সন্ধান উদ্ধার হয়েছে ১৬৭টি
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৪
রাজধানীর আজিমপুরে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি টিনশেড বাড়িতে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঐ টিনশেড বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬৭টি ককটেল, প্রায় ২০০ চকলেট বোমা ও অন্তত ১০০টি ককটেল বানানোর মতো গান পাউডার উদ্ধার করে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় জুতার বাক্স থেকে ১৮টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার হারুনুর রশীদ জানান, লোকচক্ষুর আড়ালে ঐ টিনশেড ঘরে তৈরি করা হত শ’য়ে শ’য়ে ককটেল। দু’টি বহুতল ভবনের মাঝে সরু একটি গলি। একসঙ্গে দুইজন লোকও যাতায়াত করতে পারে না। সেই গলির ভিতরে ছোট্ট একখণ্ড জমিতে টিনের ছাউনি দেয়া তিনটি ঘর। এরই একটি ঘরে তৈরি হত ককটেল।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নতুন পল্টন লাইন এলাকায় ইরাকি মাঠের পাশে ১৫২/১ ও ১৫২/২ নম্বর ভবনের পিছনের ঐ তিনটি কাঁচা ঘরের মালিক মোহাম্মদ গুলজার আমেরিকায় থাকেন। তার ভাগ্নে শেখ মনসুর আলী এগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ গোপনে বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালায়। হাবিব নামের এক ব্যক্তিসহ দু’জন গত ১৩ এপ্রিল ঐ ঘর ভাড়া নেন। ভাড়া নিয়মিত দিলেও জুলাই মাস থেকে তারা গ্যাস-বিদ্যুতের বিল দেননি। বাসায় তারা নিয়মিত আসতেন না।
লালবাগ থানার ওসি নুরুল মুত্তাকিম জানান, দুপুর ১২টার দিকে অভিযান শুরু করা হয়। এ সময় সেখানকার তিনটি টিনশেড ঘরের মাঝেরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। দুইপাশের ঘরে অন্য ভাড়াটে থাকেন। তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, তিনটি কার্টনের মধ্যে থরে থরে বোমা সাজানো। একটি শপিং ব্যাগের মধ্যেও বোমা রাখা ছিল। এছাড়া প্রচুর গান পাউডার, দু’টি চাপাতি, তিন ব্যাগ মার্বেল ও কিছু গুলতি পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে জানানো হয়।
ডিবির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের প্রধান অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, কার্টনের ভেতরে এক সারির ওপর আরেক সারি করে ককটেলগুলো রাখা ছিল। এভাবে রাখা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চাপ লেগে যে কোন সময় ককটেল বিস্ফোরিত হতে পারত। এ কারণে মনে হচ্ছে, অপেশাদার এক বা একাধিক লোক এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। ককটেলগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় ইরাকি মাঠে নিষ্ক্রিয় করা হয়।