দেশের মান বাড়ালো বুয়েটের স্টারলেটস
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:১৬
গত ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের মেরিনা লা ভ্যালিতে সিটি অব টুমরো প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সে পর্বে মোট ছয়টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার নানা স্তর পেরিয়ে এশিয়ার একমাত্র দল হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টারলেটস’ দল অংশ নেয়। স্টারলেটস দলের তিন সদস্য। দলপতি তাশনীম ফিরোজ অনন্যা, কাশফিয়া নেহরীন এবং তাসফিয়া তাসনীম বাঁধন। পড়াশোনা করে ইউআরপি ডিপার্টমেন্টে। সম্মান ২য় বর্ষে। চূড়ান্ত পর্বে অন্য দুই সদস্য ভিসা না পাওয়ায় লাল সবুজ পতাকার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে কাশফিয়া।
প্রতিযোগিতার শুরুতে ১৭০টি দল নাম প্রস্তাবনা জমা দিয়েছিল। সেখান থেকে ৬টি দলের মধ্যে আসতে পারায় চূড়ান্ত পর্বে নিজের ভেতর আত্মবিশ্বাস কাজ করছিলো। তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশের কাছ থেকে এত সুন্দর প্রস্তাবনা আশা করেনি প্রতিযোগিতা আয়োজক ‘স্টুডিকা’ কর্তৃপক্ষ। তাই কাশফিয়ার উপস্থাপনা শেষ হলে বিচারকেরা পর্যন্ত হাততালি দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। প্রতিযোগিতার বিচারক ফ্রান্সের বিখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সেইন্ট গোবিনের এইচআর ফেবিয়ান রবার্ট বলেন, ‘তোমার কারণে আমরা বাংলাদেশকে অন্যভাবে বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছি। তুমি পড়াশোনা শেষ করে আমাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে খুশি হবো।’
এছাড়া প্রতিযোগিতার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান আইফাজ কনস্ট্রাকশন বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে একত্রে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা আরেক স্পন্সর প্রতিষ্ঠান অ্যাডভানসিটি বাংলাদেশের কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবনার মৌলিকত্ব এবং উপস্থাপনার কারণে প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অর্জন করে। পুরস্কার হিসেবে অর্জন করে ১৫০০ ইউরো। আগে দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রায় সদস্য ছিল পুরুষ। স্টারলেটস দলে তিনজন-ই নারী। এমন সাহসী উদ্যোগ নেয়া প্রসঙ্গে দলপতি অনন্যা বলেন, ‘আমরা যোগ্যতার দিক থেকে নিজেরদেরকে কোন অংশে কম মনে করি না। আমরা ভার্সিটির বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য বস্তি বা বিভিন্ন স্থানেও এভাবে যেতাম। এটা যেহেতু টিমওয়ার্ক। তাই যার সাথে বোঝাপড়া ভালো থাকবে, তাকে নিয়ে কাজ করলে ভালো ফলাফল পওয়া যাবে।’
প্রতিযোগিতার বিভিন্নপর্বে তাদেরকে রাতদিন কাজ করতে হয়েছে। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কারিগরি সাহায্য দিয়েছে। এমনকি রাত দুইটা বাজে একজন ম্যাডাম স্লাইড চেক করে দিয়ে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে কাশফিয়া ইত্তেফাক ক্যাম্পাসকে জানান, ‘এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। কারণ বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে পারে এ ধরনের প্রতিযোগিতা।’