শেষ হাসি জোকোভিচের

বছরের শেষ এটিপি টুর্নামেন্ট ফাইনালে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে আগামী বছর জমজমাট এক লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন নোভাক জোকোভিচ। প্রায় একপেশে এক ফাইনালে টুর্নামেন্টের শিরোপা ধরে রাখার পথে দ্বিতীয় বাছাই এই সার্বিয়ান ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারান নাদালকে। বছরের মাঝের অংশটা যদি হয় নাদালের তাহলে শুরু আর শেষাংশটা নিজের ভাবতেই পারেন জোকোভিচ। মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শিরোপা ধরে রাখার পর নাদালের দাপটে জোকোভিচ হাত ছোঁয়াতে পারেননি অন্য কোন বড় শিরোপাতেই। গ্র্যান্ড স্ল্যামের বাইরে ক্লে আর হার্ড কোর্টে অন্যান্য টুর্নামেন্টগুলোতেও অপ্রতিরোধ্য নাদালের সামনে অনেকটা দর্শক হয়েই থাকতে হয় জোকোভিচকে। যদিও মন্টে কার্লো মাস্টার্সের ফাইনালে স্প্যানিশ প্রতিপক্ষকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা নবম শিরোপা থেকে বঞ্চিত করেন জোকোভিচ। এরপর আবার যথারীতি নাদাল দৌরাত্ম্য। এরই ধারাবাহিকতায় ১০১ সপ্তাহ শীর্ষে থাকার পর বছরের শেষ দিকে নাদালের কাছে এক নম্বর জায়গাটিও হারাতে হয় জোকোভিচকে। তবে শীর্ষস্থান হারালেও এত সহজেই হাল ছাড়ছেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্যারিস মাস্টার্সের পর এবার লন্ডনেও শিরোপা জিতে সে কথারই প্রমাণ রাখলেন জোকোভিচ। এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালে তৃতীয় শিরোপার মাধ্যমে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটাকেও ২২ ম্যাচে টেনে নিলেন জোকোভিচ। পাশাপাশি এ মৌসুমে নাদালের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে ৩-৩ এ সমতা আনলেন তিনি। টিম হেনম্যানের মতো টেনিস বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জোকোভিচের এই জয় মাত্র ছয় সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী মৌসুমে দারুণ এক দ্বৈরথেরই ইঙ্গিত দিল। জয়ে মৌসুম শেষ করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত জোকোভিচও। ২৬ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘গ্র্যান্ড স্ল্যামের পর এখানেই সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে আপনাকে পড়তে হয়। কারণ, প্রতিদিনই আপনাকে এমন সব খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যারা কিনা (র্যাঙ্কিংয়ে) শীর্ষ দশে অবস্থান করছেন। আর এবছর প্যারিস আর লন্ডনে দুই টুর্নামেন্টের মধ্যে ব্যবধান ছিল খুবই কম (৪৮ ঘন্টা সময় পেয়েছিলেন জোকোভিচ)। যেভাবে পুরো ব্যাপারটা আমি সামলেছি এবং টুর্নামেন্ট এগোনোর সাথে সাথে উন্নতি করেছি তাতে আমি খুবই সন্তুষ্ট।’ বিশেষত, সেমিফাইনাল আর ফাইনালে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আলাদা করে বললেন এই সার্বিয়ান, ‘গ্রুপের সব প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই আমাকে দারুণ কঠিন কিছু তিন সেটের ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তবে সেমিফাইনাল আর ফাইনালে যেখানে নিজেকে এগিয়ে নেয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেখানে আমি নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছি।’ এদিকে এই টুর্নামেন্টে আরো একবার শিরোপা জিততে বঞ্চিত হওয়া নাদাল মৌসুমে নিজের শেষ ম্যাচের পর ধন্যবাদ জানালেন দর্শকদের, ‘আমি সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুমটাই এবার কাটালাম। আর এই স্টেডিয়ামে এমন একটা ম্যাচে অংশ নেয়াটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। শুধু আজ নয়, পুরো বছর জুড়ে যারা আমাকে সমর্থন জুগিয়ে গেছেন সবাইকে ধন্যবাদ। আগামী মৌসুমে দেখা হবে!’ এদিকে নাদালের জন্য মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও জোকোভিচের সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি টুর্নামেন্ট। টেনিসের সবচেয়ে বড় দলগত আসর ডেভিস কাপের ফাইনালে আগামী সপ্তাহেই বেলগ্রেডে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সার্বিয়ার পক্ষে কোর্টে নামবেন তিনি।