ওয়ানডে বিপর্যয়ে বিশ্বকাপ নিয়েও শঙ্কিত মিসবাহ
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৯
‘অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি। বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে এটা খারাপ লক্ষণ’
‘রাজ্জাক এবং মালিক দু’জনেরই দলকে জেতানোর ক্ষমতা আছে তাদের উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়াবে। রাজ্জাকের বোলিংয়ে ধার কমে এলেও তার ব্যাটিং দলকে অনেক সাহায্য করবে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতে’
ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ওয়ানডে সিরিজটি ৪-১ ব্যবধানে হারার পর ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। গত সোমবার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষটিতে এবি ডি ভিলিয়ার্সের হার না মানা দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে মিসবাহর দলকে ১১৭ রানের বড় ব্যবধানে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এ হারের প্রেক্ষাপটে আজ দুবাইয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দুটি। এ নিয়ে ছয়টি ওয়ানডে সিরিজের সবগুলোতে জয় অব্যাহত রাখলো প্রোটিয়াসরা।
পাকিস্তান অধিনায়ক মনে করছেন, দলের ব্যাটসম্যানদের ক্রমাগত ব্যর্থতা আগামী বিশ্বকাপেও প্রভাব ফেলতে পারে। মিসবাহ বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি। বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে এটা খারাপ লক্ষণ।’ বোলাররা তাদের কাজটা ঠিকভাবে করলেও ব্যাটসম্যনদের ব্যর্থতার কারণেই আগের চার ম্যাচে হেরেছে দলটি।
সমস্যা সমাধানের দিকেই মনোনিবেশ করার ব্যাপারে মত দিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘হৈ চৈ না করে আমাদের একসাথে বসে আলোচনা করতে হবে।’ তবে দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমিই এর জন্য দায়ী।’ অধিনায়কত্ব ছাড়বেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মিসবাহ বলেন, ‘আমি যতোদিন ফিট থাকবো খেলে যেতে চাই।’
তবে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৫ বিশ্বকাপে এই সিরিজটা প্রোটিয়াসদের মনোবল বাড়াবে বলে মনে করেন দলটির অধিনায়ক। ডিভিলিয়ার্স বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় আমরা বাজে খেলেছি। তবে এই সিরিজ আমাদের পুরো দলের জন্য ইতিবাচক। পুরো দল যেভাবে খেলেছে তা অত্যন্ত সন্তোষজনক। আমি মনে করি, তারা দারুণ খেলেছি।’
ওয়ানডে সিরিজে হারলেও টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং বিপর্যয় এড়াতে দলে ডাকা হয়েছে আব্দুল রাজ্জাক এবং সোয়েব মালিককে। তাদেরকে দলে ডাকা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের নির্বাচক সালিম জাফর বলেন, ‘রাজ্জাক এবং মালিক দু’জনেরই দলকে জেতানোর ক্ষমতা আছে তাদের উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়াবে। রাজ্জাকের বোলিংয়ে ধার কমে এলেও তার ব্যাটিং দলকে অনেক সাহায্য করবে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতে।’
সারজায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলীয় চার রানের মাথায় হাসিম আমলা আউট হন। ৬২ রান তুলতেই তিন উইকেট হারায় প্রোটিয়াসরা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে এবি ডিভিলিয়ার্স ১০২ বল খেলে ১০টি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে অপরাজিত ১১৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। ৫০ ওভার খেলে সাত উইকেটের বিনিময়ে আফ্রিকা ২৬৮ রান সংগ্রহ করে। সাইদ আজমল তিনটি এবং জুনাইদ খান দুটি উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন সোয়েব মাকসুদ। তিনি ৬৫ বল খেলে সাতটি চারের মারের সাহায্যে ৫৩ রান সংগ্রহ করেন। ৩৫ ওভার তিন বল খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ১৫১ রান সংগ্রহ করে। ওয়েন পারনেল সর্বোচ্চ তিনটি এবং জেপি জুমিনি, রায়ান ম্যাকলরেন ও ভেরনন ফিলেন্ডার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
পাকিস্তান দলের অধিনায়ক মিসবাহ আগেই তার দলের ব্যাটিং দৈন্যতার কথা শিকার করেছিলেন। এই ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতাই কাল হয়েছে অন্য দেশকে হোমগ্রাউন্ড বানানো দলটির। দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬৮ রানের জবাবে মাত্র ১৫১ রানেই গুটিয়ে যায় মিসবাহর দলটি। ডিভিলিয়ার্স তার বোলিংয়ের সব থেকে বড় অস্ত্র ডেল স্টেইনকে এদিন মাঠে না পেলেও বাকিরা মিলিতভাবে আঘাত হেনেছেন পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে।
গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত শেষ ওডিআই সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল পাকিস্তান। এছাড়া জুনে তারা ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তিনটি ম্যাচ খেলে সবকটিতেই পরাজিত হয়। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেলেও সেখানেও ব্যাটিং দলটির দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ওডিআই এবং একটি টেস্টে পরাজিত হয়েছিল পাকিস্তান। অধিনায়ক মিসবাহ মনে করেন সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তার সতীর্থরা, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজেকে প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে। দুটি সিরিজ খেলার পরও তারা প্রয়োজন অনুযায়ী খেলতে পারছে না। এটা একটা দুশ্চিন্তার কারণ।’
ডিভিলিয়ার্সের ব্যাটিংয়ের উপর ভর করেই বড় সংগ্রহ পায় প্রোটিয়াসরা। এদিন কোনো প্রোটিয়াস ব্যাটসম্যান হিসেবে সব থেকে কম সময় নিয়ে ৬০০০ রানের মাইলফলক ছুঁলেন ডিভিলিয়ার্স। তিনি নিজের ব্যাটিং সম্পর্কে বলেন, ‘আমি যতোগুলো বড় ইনিংস খেলেছি তার মধ্যে এটা ছিল সব থেকে কঠিন। ইরফানকে খেলা ছিল বেশ কঠিন। শহিদ আফ্রিদি এবং ইরফানের বল আমার ব্যাটকে বার বার পরাস্ত করছিল।’
পাকিস্তান অধিনায়ক প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা দারুণ খেলে জিতেছে। এই জয় তাদের প্রাপ্য ছিল এবং আবারো আমরা ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলাম।’