হরতালে মানুষ হত্যার দায় খালেদা জিয়াকে নিতে হবে :প্রধানমন্ত্রী
খোন্দকার এহিয়া খালেদ ও গৌরাঙ্গ লাল দাস কোটালীপাড়া থেকে
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হরতালের নামে মানুষ হত্যার দায়-দায়িত্ব বিরোধী দলীয় নেতাকেই নিতে হবে। এ হত্যার বিচার একদিন হবে। জনগণের স্বার্থেই বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে হরতাল প্রত্যাহারের আবেদন করেও সাড়া পাইনি। আমাকে বার বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের কল্যাণ করার জন্য আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বার বার বাঁচিয়ে রেখেছেন।
উনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে চান। হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশ চান। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক, যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ আমাকে কেউ জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। আমি জনগণের কল্যাণেই জীবনকে উত্সর্গ করতে চাই।
ভোট কারচুপি বা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে পারবে না বলেই নির্বাচনে না যাওয়ার জন্য গো ধরে বসে আছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চান না বলে নির্বাচনে আসতে চান না বিরোধী দলীয় নেত্রী। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. সুভাষ চন্দ্র জয়ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াস সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, উপদেষ্টমন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহম্মেদ এমপি, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এস.এম কামাল হোসেন, বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, সোলায়মান বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। সকাল থেকেই ব্যান্ডপার্টি ও বাদ্য যন্ত্র, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও জয়ের ছবি নিয়ে উত্সবের আমেজে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ সমবেত হতে থাকেন জনসভা স্থলে। দুপুরের আগেই জনসভার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনসভায় আগত লোকজন পার্শ্ববর্তী কাজী মন্টু কলেজ, ভাঙ্গারহাট বাজারসহ আশপাশের গ্রামে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন।
বিকালে জনসভায় যোগ দিয়ে আবেগ তাড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই এলাকায় আসলে মনে হয় আপন ঘরে এসেছি। এ এলাকার মানুষ আমার অত্যন্ত আপনজন। মা-বাবা ভাই ও স্বজনদের হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসে স্বজনদের খুঁজে পাই। এ এলাকার মানুষ আমাকে বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। দেশের, দলের ও বিদেশে কাজে ব্যস্ত থাকায় আপনাদের কাছে আসতে পারি না। তারপরও আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার আত্মা এখানেই পড়ে থাকে। এ মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, তিনি এখানেই ঘুমিয়ে আছেন। আমি অবসর নিয়ে টুঙ্গিপাড়া কোটালীপাড়ার মাটিতেই থাকব।
উন্নয়নের স্বার্থে আবারো নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার করব। ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেব। কুড়ে ঘরের পরিবর্তে প্রতি পরিবারে একটি করে টিনের ঘর করে দেব। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে আমার বাবা জীবন দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমার বুকের তাজা রক্ত ঢেলে এ দেশের মানুষের সেবা করে যাব।
এর আগে জনসভা স্থলে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত গোপালগঞ্জ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, কৃষি আবহাওয়া বর্যবেক্ষণাগার, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিনা), শেখ হাসিনা স্কুল এ্যান্ড কলেজ, কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া-পয়সারহাট-গোপালগঞ্জ সড়ক, পয়সারহাট ২য় ব্রীজ, গোপালপুর ব্রীজ, পিঞ্জুরী, রামশীল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, হেমায়েত বাহিনীর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি যাদুঘর, কোটালীপাড়া সাবরেজিস্ট্রি অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, কবি সুকান্ত অডিটোরিয়ামের নির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আরো কয়েকটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি অর্থবছরেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। এ সময় সুধী সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান, হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, আবুল হোসেন চৌধুরী এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পদ্মাপারের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে শিবচরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাওয়া-জাজিরা এপ্রোচ সড়কের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি শিবচর উপজেলার ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।